বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

চার জেলায় তিস্তা ও যমুনার পানি বেড়েছে

অন্যান্য নদনদীতে পানি কমলেও ভাঙন অব্যাহত, পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগে
চার জেলায় তিস্তা ও যমুনার পানি বেড়েছে
প্রতীকী ছবি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া ও গাইবান্ধায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। পাবনায় যমুনা নদীতে পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা নদীতেও পানি বাড়ছে। তবে অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পানিবন্দি মানুষ। জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৪ লাখেরও বেশি মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) : যমুনা নদীতে পানি বাড়তে থাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় ও নড়বড়ে বাঁধ রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে বাঁশের পাইলিং করে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। এদিকে বাঁধের ওপর বসবাসকারী প্রায় ৭ হাজার পরিবার আতঙ্ক ও উত্কণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়া ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন ৪৫ কিলোমিটার বাঁধের ১৬ কিলোমিটার বাঁধ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাঁধের আউচারেরপাড়া, হাসনাপাড়া, পাকুল্যা, হাটশেরপুর, অন্তারপাড়া, তিতপরল, কালিতলা, মথুরাপাড়া, দেবডাঙ্গা, ঘুঘুমারী, শেখপাড়া, রৌহাদহ, হাওড়াখালী, দড়িপাড়া, ধুনট, শহড়াবাড়ী, ভান্ডারবাড়ী ও ভুতবাড়ী পয়েন্টে বাঁধ রক্ষায় পাউবোর ঠিকাদাররা জরুরিভিত্তিতে বাঁশের পাইলিং ও বালুর বস্তা ফেলছে।

পাবনা : শুক্রবারের মতো শনিবার সকালেও নগরবাড়ি পয়েন্টে পানি বিপত্সীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরই মধ্যে ডুবে গেছে নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো। তবে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে বলে জানান পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি শুক্রবারের তুলনায় ০ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার কমে বিপত্সীমার ২ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত শুক্রবার যা ছিল ২ দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার।

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর : গত কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ ও ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার সাত ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা, নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডোহরা, চর নোহালী, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলি ও জয়রামওঝা এলাকার প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়িতে পানি ওঠায় এসব এলাকার বেশ কিছু লোকজন গবাদিপশুসহ উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। স্থানীয়রা জানান, পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জামালপুর : সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চরম দুর্ভোগে রয়েছে বানভাসি মানুষ। গত শনিবার যমুনার পানি ১৬ সেন্টিমিটার কমে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপত্সীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্রসহ শাখা নদ-নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৪ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ এবং পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের ৫৩৪ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইসলামপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করলেও গত দুদিন থেকে তিস্তার পানি বেড়েই চলেছে। কিন্তু তারপরও শনিবার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি বিপত্সীমার ওপরে থাকায় বানভাসি মানুষের বাড়িঘর থেকে পানি এখনো নামতে শুরু করেনি। তাই লোকজন এখনো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ ও সড়ক থেকে বাড়ি ফিরতে পারেনি। এসব বাঁধ ও সড়কে আশ্রিতরা বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার সংকটসহ নানা দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। এদিকে যমুনা নদীর পানির স্রোতে গত শুক্রবার রাতে সাঘাটার জুমারবাড়ি-হলদিয়া সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় পাকা সড়ক ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে গোবিন্দপুর গ্রাম। এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের ও যমুনা পানি কমতে শুরু করায় নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার সাতটি পয়েন্টে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ৫২ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপত্সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর তিস্তার পানি ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকার দোহারের নয়াবাড়ী ধোয়াইর বাজারসংলগ্ন পদ্মা রক্ষা বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এর ফলে পশ্চিম ধোয়াইর এলাকার বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে রাত-দিন পার করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনের ফলে মৈনটঘাটসহ আশেপাশে কৃষিজমি ও গ্রামের অংশ নদীতে বিলীন হচ্ছে। ফলে দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নবাসীর ভাঙন আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, ভাঙনের বিষয়ে আমাদের দপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম): নাগেশ্বরীতে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। পরিবর্তন ঘটেনি প্লাবিত লোকালয়ের চিত্র। পানিতে ভাসছে ঘর-বাড়ি। এখনো জাগেনি রাস্তাঘাট। উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ৪ হাজার ৬২৮ পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে পানিবন্দি করেছে।

আরও পড়ুন: সোনায় মোড়ানো হোটেল!

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে নৌকার হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হয়ে ওঠে এসব হাট। বিক্রিও হয় শত শত নৌকা। নৌকার হাটের মধ্যে ঘিওরের হাট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কালীগঙ্গা আর ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ঘিওর ও পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে ঘিওর উপজেলার বিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে শত শত নৌকা নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। বেচাকেনা চলে রাত পর্যন্ত।

ইত্তেফাক/আরআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত