মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় গরু, বিপাকে দেশী খামারিরা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ১৫:৫০

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারত থেকে আসছে গরু। এতে গরুর দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দেশী খামারিরা। এ উপজেলায় রয়েছে ২০ হাজারের অধিক বিক্রয়যোগ্য পশু। 

মহেশপুরে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ১৩৬টি ছোট-বড় গরুর খামার। এতে প্রায় ১০ হাজার ৬২২টি বিক্রয়যোগ্য গরু রয়েছে। ৩ হাজার রয়েছে ছোট-বড় ছাগল ভেড়ার খামার। এ সকল খামার থেকে ১২ হাজার খাসি ছাগল ও ৬’শ ভেড়া বিক্রি করা যাবে। ঈদুল আজহার আর ১০দিন বাকি থাকলেও গরু ছাগল বিক্রি নেই। অন্যান্য বছর খামারিরা এ সকল গরু-ছাগল দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি করতো কিন্তু এবার কোন ক্রেতা এখনও পর্যন্ত আসেনি। 

স্থানীয়ভাবে চাহিদার তুলনায় গরু-ছাগল কয়েকগুণ বেশি। ছাগল কিছু বিক্রি হলেও গরুর কোন ক্রেতা নেই। খামারিরা বলছে স্থানীয়ভাবে গরুর দাম যা উঠছে তাতে ৩০% থেকে ৩৫% লোকসান হবে। এভাবে চলতে থাকলে খামারিরা পথে বসবে। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফজলুল কবির জানান, মহেশপুরে বিক্রির জন্য যে সকল ছাগল গরু আছে যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। যদি বাইরের ক্রেতা না আসে অথবা বাইরে রপ্তানি না করা যায় তাহলে খামারিদের লোকসান হবে। যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনেকের বাড়িতে নিজেদের কোরবানির জন্য পশু পালন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: ভারত থেকে আসছে নতুন মাদক ‘ডায়ালেক্স-ডিসি’ 

এদিকে বিজিবির কড়া নজরদারির মধ্যেও ভারত থেকে অবৈধপথে গরু আসায় খামারিরা আরও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই অবৈধপথে ভারত থেকে গরু আসছে। বিজিবি গরু আটক করছে তবে যা আটক করছে তার তুলনায় অনেক বেশি গরু আসছে বলে সীমান্তের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

৫৮ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল আহসান জানান, ভারত থেকে অবৈধপথে গরু আসা বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।     

মহেশপুরের বৃহত্তম খামারের মালিক পলাশ জানিয়েছে, এ বছর গরুর খাদ্যের ব্যাপক দাম তার ওপর করোনা ভাইরাসের কারণে গরু বিক্রি নেই। তারপরও ভারত থেকে গরু আসার কারণে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 

মহেশপুর পৌরসভাধীন বৈঁচিতলা গ্রামের খামারি গ্রাম্য পশু ডাক্তার মিলন জানায়, এবার তার ১০টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে কালামনির প্রায় ২০-২৫ মন মাংস হবে। দাম দেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এ বছর গরুর তেমন কোন ক্রেতা নেই। হতাশায় দিন কাটছে তার। 

উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের গরু খামারি আব্দার হোসেন জানিয়েছেন, আগে গরুকে খাওয়ানোর ভুসি কিনতাম কেজি প্রতি ২৮টাকা। সেই ভুসি বর্তমানে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য খাদ্যেরও ব্যাপকভাবে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু গরুর দাম কমে গেছে। এ বছর তাদের ব্যাপক লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করছে তবুও যদি গরু বিক্রি হয় তাহলে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা যাবে। 


ইত্তেফাক/এএএম