কুড়িগ্রামের আবারও বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র ধরলার পানি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ২০:৪৮

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তার পানি আবারও বাড়তে শুরু করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। পাউবো সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ২৯ ও ব্রহ্মপুত্রে ১৯ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ২৮ দিন ধরে  উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া প্রায় আড়াই শতাধিক চরের বন্যা দুর্গত মানুষজনের ঘরে ফেরা। দুর্ভোগে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার তিন লক্ষাধিক পানিবন্দি মানুষ।

২৮ দিন ধরে উঁচু রাস্তা, বাঁধ, নৌকা এবং ঘরের ভেতরে উঁচু মাচা করে ভেসে থাকা প্রায় আড়াই শতাধিক চরের পানিবন্দি মানুষগুলো জানেনা কবে এ থেকে মুক্ত হবেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ এবং ধরলা ও তিস্তার উজানে সাব হিমালয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল ও সিকিম অংশে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। নদ-নদীগুলোতে পানি ওঠানামা করলেও বিপৎসীমার নিচে না নামায় এবারের বন্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর সবকটি পয়েন্টে পানি আবারো বিপৎসীমার এক মিটার অতিক্রম করতে পারে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় কোরবানি ঈদের পরেও বন্যা পরিস্থিতি চলমান থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে কলেজছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পরিবারের দাবি খুন

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, জেলার ৯ উপজেলার বন্যা দুর্গত মানুষদের জন্য এ পর্যন্ত ১৯০ মেট্রিক টন চাল, জিআর ক্যাশ ৯ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। চাহিদা মোতাবেক আরো ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ঈদ সামনে রেখে ভিজিএফ বাবদ চার হাজার ২৮৫ মেট্রিকটন চাল উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ঈদের আগেই চার লক্ষাধিক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে। 

ইত্তেফাক/এসি