বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

পদ্মায় আরো এক স্কুল ভবন বিলীন

জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলছে
পদ্মায় আরো এক স্কুল ভবন বিলীন
চরাঞ্চলের আরেকটি বাতিঘর বিলীন হলো পদ্মার বুকে। খুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষকেরা।

আড়িয়াল খা নদে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র স্রোত অব্যাহত থেকে মাদারীপুরের শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এবার পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হলো চরাঞ্চল কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের একটি ৩ তলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার ভবন।

এখনও ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখনো পানিবন্দি রয়েছে হাজার হাজার পরিবার। ভাঙ্গন প্রতিরোধে চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশনায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চীফ হুইপের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে খাবার সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবচরের পদ্মা ও আড়িয়াল খা নদে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোত অব্যাহত থেকে নদী ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ৭ ইউনিয়নে। পদ্মা তীরবর্তী উপজেলার বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাতে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে মঙ্গলবার বিকেলে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৭৭ নং কাঁঠালবাড়ি সরকারী বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার ভবনটির বৃহৎ অংশ বিলীন হয়। বিদ্যালয়টিতে ২ শ ৭২ জন শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলোয় দীপ্ত হতো। চরাঞ্চলের এই জ্ঞানের বাতিঘর রক্ষায় গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যালয়কে ঘিরে শিক্ষকগণের উপস্থিতিতে চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশনায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। কিন্তু পদ্মা তীব্র খরস্রোতের কাছে সকল চেষ্টাই হার মানে।

মঙ্গলবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমান আতাহার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম মাহতাফ উদ্দিন, জাহিদ হোসেন মোল্লা, মিনহাজুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রবিউলসহ শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে কয়েকদিন আগেই বন্দরখোলা ইউনিয়নে একটি ৩ তলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, কাজীর সূরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

আড়িয়াল খাঁ তীরবর্তী সন্ন্যাসীরচর, শিরুয়াইল, নিলখী ও বহেরাতলা দক্ষিণেও নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত নদীতে বিলীন হয়েছে সাড়ে ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি। এ সকল এলাকায় খোলা ২১ টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুর্গত এলাকায় চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

৭৭ নং কাঁঠালবাড়ি সরকারী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুলহাস বেপারী বলেন, ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর কয়েকদিন আগে চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশে বিদ্যালয় ফান্ড থেকে ৬ শ ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল।

৭৭ নং কাঁঠালবাড়ি সরকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় আছি। খুবই কষ্ট লাগছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক মাস ধরেই আমরা ভাঙ্গন আতঙ্কে ছিলাম। বিদ্যালয়টি রক্ষায় চীফ হুইপ স্যারের নির্দেশে গত শুক্রবার ৬শ ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে আর রক্ষা করা গেল না।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমান আতাহার বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে এই বিদ্যালয়টি বিলীন হয়েছে। এর আগে বন্দরখোলায় আরো একটি স্কুল বিলীন হয়েছে। এছাড়া অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। আর অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত