বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
৩১ °সে

বন্যার পানিতে কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

বন্যার পানিতে কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা
খামারে বন্যার পানি চলে আসায় গরুকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে নিজের বসতবাড়িতে। ছবি: ইত্তেফাক।

মহামারী করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কোরবানির পশু নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশের খামারিরা। লাভের আশায় পশুগুলোকে লালন-পালন করে শেষ পর্যন্ত ক্রেতা সংকট ও সঠিক দাম না পেয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাড়াশের আট ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলে ৫০০ পশুর খামার রয়েছে। এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এসব খামারিরা দেশিয় ও ক্রস প্রজাতির প্রায় ২৩ হাজারের মতো পশু মোটা-তাজা করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ খামারের সেডের মধ্যে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। খামারিরা পশুগুলো বিক্রি করতে না পেরে বসতবাড়ির উঁচু ভিটায় ও নিকটস্থ সড়কের উপর বেধে রেখেছেন বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের আবুল কালাম নামে এক খামারি জানান, তিনি এ বছর ৩০টি গরু মোটা-তাজা করেছেন। বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে ক্রেতা সংকট ও সঠিক দাম না পেয়ে আজ অবধি (বুধবার) মাত্র দুইটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। তাও লোকসান গুণে। ৮/১০ দিন আগেও তার খামারের যে সব গরুর ৭০/৭৫ হাজার টাকা দাম হতো। অথচ এখন ক্রেতারা সেই সব গরু ১৫/২০ হাজার টাকা কমে কিনতে চাইছেন।

আবুল কালামের মতো খামারি দিদার হোসেন, আব্দুল আহাদ, আব্দুল হালিম, বাবলু মিঞা প্রমুখ অনুরূপ দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে লাভ তো দূরে থাক, গরু বিক্রি করে আসল তুলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তারা আরো বলেন, বন্যার পানিতে খড়ের পালা পচে গেছে। কৃত্রিম গো-খাদ্য দিয়ে গরু পালন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে সগুনা ইউনিয়নের নওখাদা গ্রামের খয়বার হোসেন জানান, পেশায় তিনি একজন কৃষক। চাষ আবাদের পাশাপাশি কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য তিনটি গরু ও দুইটি ছাগল মোটা-তাজা করেছেন। তবে আশানুরূপ দাম না পেয়ে বিক্রি করতে পারছেন না।

স্থানীয় ব্যাপারী ও মাংসের ব্যবসায়ী সোহান প্রামাণিক জানান, অন্যান্য বছরের মতো পশুর হাটে মৌসুমি ব্যাপারী পশু কিনতে আসছেন না। সপ্তাহ খানেক আগেও গরুর মাংস ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো। অথচ এখন ৪০০/৪২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ জে এম সালাউদ্দিন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, কয়েকদিন আগেও যে সব খামারি পশু বিক্রি করেছেন তারা তুলনামূলক ভালো দাম পেয়েছেন। তাদের উচিৎ পশুগুলো রেখে কোরবানির কিছুদিন পর বিক্রি করা।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত