নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানিকগঞ্জে তারেক মাসুদ-মিশুক মনিরকে স্মরণ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১৬:০০

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিশুক মনির স্মরণে মানিকগঞ্জে স্থাপিত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পন, মানববন্ধন ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসময় ঢাকা-পাটুরিয়া সড়কে রেল সংযোগের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকার দুর্ঘটনাস্থলের স্মৃতিস্তম্ভের পাশে যৌথভাবে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব, তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর স্মৃতি পরিষদ, বারসিক, রেইনবো থিয়েটারসহ বিভিন্ন সংগঠন  এসব কর্মসূচি পালন করে। 

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট দিপক কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, সাবেক সম্পাদক  জাহঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বারসিক প্রতিনিধি বিমল রায়, কৌড়ি এম এ রউফ কলেজের অধ্যাপক নাসিম উদ্দিন, তারেক মাসুদ-মিশুক মনির স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিপন আনসারী, কমরেড  শামসুল আলম খান, কমরেড দুলাল বিশ্বাস, রেইনবো থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা গিনি আলম, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে মহাসড়কের পাশে নিরাপদ সড়ক ও ঢাকা-পাটুরিয়া সড়কে রেললাইন সংযোগের দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টা ব্যাপী চলা মানববন্ধন শেষে তারেক মাসুদ-শিশুক মুনীরের স্মৃতি ফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে দুর্ঘটনাস্থল ও বানিয়াজুরী এলাকায় বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সকালে কাগুজের ফুল সিনেমার সুটিং স্পট দেখে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শালজানা গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরছিলেন প্রখ্যাত চলচিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ নয়জনের একটি দল। পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার জোকা নামক এলাকায় তাদের বহনকৃত মাইক্রোবাসটি পৌছালে বিপরীত গামী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহরে বাসের সঙ্গে সংর্ঘষ হয়। এসময় মাইক্রোস বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। মাইক্রো বাসের ভেতরে থাকা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ প্রোডাকশন সহকারী ওয়াসিম, জামাল এবং মাইক্রোবাস চালক মুস্তাফিজুর রহমানসহ পাঁচজন নিহত হন।  সেই দুর্ঘটনায় আহত হন তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিল্পী ঢালী আল মামুন ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম জলি।

ইত্তেফাক/এসি