এক দিকে জনসচেতনতার অভাব ও অন্য দিকে নতুন নতুন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায় সারা কাজসহ নিম্নমানের ইলেকট্রিক সামগ্রী ব্যবহার করায় প্রতিনিয়ত ঘটেছে বিদ্যুতস্পৃষ্টের ঘর্টনা। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত আড়াই মাসে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিদ্যুতস্পৃষ্টে ছয়জনের মৃত্যু ঘটে।
বেশি করে বিদ্যুৎ বিভাগের দিক নিদের্শনামূলক প্রচার-প্রচারণা ও গ্রাহকরা জনসচেতন হলেই এমন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করে সচেতন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে বিদ্যুতস্পৃষ্টে মৃত্যুর কারণগুলো খুঁজে বের করে প্রতিটি পাড়ামহল্লায় বিদ্যুতের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ দিক নিদের্শনামূলক প্রচার-প্রচারণা চালাতে বিদ্যুত বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল হানিফ সরকার ও ফুলবাড়ী জছিমিয়া মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু নতুন নতুন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করলে হবে না। বিদ্যুত বিভাগ প্রতিদিন মেইন লাইন চেক করা ও বিদ্যুতের লাইনের পাশে গাছপালা কেটে ফেলাসহ প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি পাড়ামহল্লায় গিয়ে বিদ্যুত ব্যবহারের ওপর গ্রাহকদের জনসচেতনামুলক দিক নিদের্শনামুলক পরামর্শ প্রদানে উঠান বৈঠক করতে হবে। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের বাড়ির ওয়ারিংয়ের জন্য নিন্মমানের ইলেকট্রিক সামগ্রী ব্যবহার না করার পরামর্শ প্রদান করতে হবে। গ্রাহক সচেতন হলে বিদ্যুত¯তৃষ্টে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে আসবে।
আরও পড়ুন: পাবনায় হাজারও মানুষের পদচারণায় মুখর শিলাইদহ ঘাট
ফুলবাড়ী পল্লীবিদ্যুতের ইনচার্জ মোর্শেদ আলম জানান, সরকারের নিদের্শনা মোতাবেক গ্রাহকদের সঠিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে এক থেকে দুইবার জনসচেতনামুলক মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। সেই সঙ্গে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের জন্য নিদের্শনামূলক লিফলেট বিতারণসহ প্রতিটি পাড়ামহল্লায় উঠান বৈঠক করি। সেই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও মসজিদের ইমামদের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর আলোচনা করা হয়।
তিনি আরও জানান ভেজা শরীরে কোনো প্রকার বৈদ্যুতিক সুইচে হাত দেওয়া যাবে না এবং নিন্মমানের তার, সুইচসহ বৈদ্যুতিক সামগ্রী ওয়ারিং কাজে ব্যবহার করা যাবে না। গ্রাহকরা সচেতন হয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে অনাকাংক্ষিত দুঘর্টনা এড়ানো যাবে।
ইত্তেফাক/এসি
