কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোন অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়াই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব গাছ কেটে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর-পিয়ারপুর সড়কের ৪০টি মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিজের বাড়ির আঙিনায় নিয়ে গেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান।
এলাকাবাসী জানায়, ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কয়েক দফায় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান ঐ সড়কের ৪০টি গাছ কেটে নিয়েছে। যার দাম প্রায় ৫ লাখ টাকা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজি ফজলুল হক জানান, তিনিসহ এলাকার লোকজন গাছ কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান জানান, চেয়ারম্যান সাহেবের অনুমতি নিয়ে এসেছেন। তবে, লিখিত কোন ধরণের অনুমতিপত্র তারা দেখাতে পারেননি।
ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছগুলো রাস্তার মধ্যে ঝুলে পড়েছিল বলে তিনি গাছগুলো কেটেছেন।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালুর কাছে জানতে চাইলে তিনি গাছ কাটর সাথে যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
অপরদিকে উপজেলার আড়িয়া ইউপির আড়িয়া-ওমরপুর সড়কের পাশে প্রায় ৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বন বিভাগের কতিপয় কর্মচারীর সহায়তায় কাবেজ উদ্দিন, আলেক উদ্দিনসহ এলাকার প্রভাবশালীরা কেটে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পরিষদের ভিতরের ৬টি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়েছেন দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল ইসলাম ও তার লোকজন কেটে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে তার কাছে কেউ আবেদন করেননি। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগ কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক ডিডিএলজি সাহেবের আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

