দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও টানা বর্ষণে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া ও কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঝাপায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নব নির্মিত রিং বাঁধের আটটি পয়েট ভেঙে গেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে উপজেলা ব্যাপী পাউবো বেড়িবাঁধ অধিকাংশই বিধ্বস্ত হয়। পরে পাউবো কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ভাঙন রোধে বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণ করে। পরিপূর্ণভাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় চলমান টানা বর্ষণে ওই সমস্ত রিং বাঁধ ভেঙে পুনরায় গাবুরা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামসহ কাশিমাড়ী ইউনিয়নে তিনটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আল জানান, বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে লোনা পানি প্রবেশ করে ইউনিয়নের গাবুরা, লেবুবুনিয়া, খোলপেটুয়া, গাবুরা পশ্চিম পাড়া ও চকবারা গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে দশ হাজারের বেশি মানুষ। ভেসে যায় চার শতাধিক মৎস্য ঘের, বিধ্বস্ত হয় দুই শতাধিক কাচাবাড়ি। পানিবন্দি মানুষ বর্তমানে পাউবো বেড়িবাধের ওপরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রায় নিয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ভাঙন কবলিত ছয় পয়েন্ট বাধা হয়েছে। উপজেলা প্রাশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ টন চাউল ও নগদ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যেকোন মুহূর্তে রিং বাধ ভেঙ্গে সমগ্র ইউনিয়ন ফের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাশিমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফ জানান, টানা বর্ষন ও খোলপেটুয়া নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝাপালিতে রিং বাঁধে ১০ মিটার ভেঙে গেছে। এতে ইউনিয়নের ঘোলা, ঝাপালি ও কাশিমাড়ী গ্রাম প্লাবিত হয়ে আট শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুই শতাধিক মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: গৌরীপুরে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের টাকা আত্মসাৎ ও সার্ভিস বুক কাণ্ড
শ্যামনগর সহকারী প্রকৌশলী (এসডিই) রাশেদুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে উপজেলার ১৮৯.৩৭ কিলোমিটার পাউবো বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার মধ্যে ৩৫ কিলোমিটার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৮৯ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে গাবুরা ইউনিয়নের ২৭ কিলোমিটার পাউবো বাঁধের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। গাবুরা লেবুবুনিয়ায় ভাঙনকৃত রিং বাঁধের ছয় পয়েন্ট বাধা হয়েছে। তিন হাজার সিনথেটিক ব্যাগ ও পাঁচশ বাঁশ দিয়ে ভাঙন রোধ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার শনিবার সকাল ১০টায় ভাঙন কবলিত গাবুরা ইউনিয়ন পরিদর্শন শেষে বলেন, ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাধ টেকসইভাবে নির্মাণ করার জন্য সরকারের নয়শ ৯০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন আছে।
ইত্তেফাক/এসি
