চট্টগ্রামে মজুত চামড়া নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৪

লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া বিক্রি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চট্টগ্রামের আড়তদার ব্যবসায়ীরা। এখন চামড়া ক্রয়ে সাড়া দিচ্ছে না ট্যানারিগুলো। সীমিত পরিমাণ চামড়া বিক্রি হলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত মূল্য দিচ্ছে না ট্যানারিমালিকরা। 

 

আড়তদাররা জানান, এক মাস চলে যাচ্ছে কিন্তু চামড়া কেনার ব্যাপারে ট্যানারিগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। চট্টগ্রামের আড়তদারদের কাছে প্রায় ৩ লক্ষাধিক লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া গ্রামে ফড়িয়া ব্যাপারীদের কাছেও প্রচুর লবণযুক্ত চামড়া অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। 

 

আড়তদার বিক্রেতারা জানান, ধারকর্জ করে তারা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছে। ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছে বিগত সময়ে বকেয়া টাকাও পায়নি। এতে চামড়া কেনার জন্য ট্যানারির সাড়া না পাওয়ায় আড়তদার ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া আর এক মাসের বেশি আড়তে রাখা যাবে না। এরপর প্রক্রিয়াকরণ করা না হলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে। 

 

আড়তদাররা জানান, এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ পিসের মতো চামড়া বিক্রি হয়েছে। চট্টগ্রামে রিফ লেদার ও ঢাকার আকবর ট্যানারি সীমিত চামড়া ক্রয় করেছে। ঢাকার কোনো ভালো ট্যানারির সাড়া না পাওয়ায় আড়তদাররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। যারা নগদ টাকায় চামড়া কিনেন এসব ট্যানারি চট্টগ্রামে আসছে না। যে পরিমাণ চামড়া বিক্রি হয়েছে তাও বেশির টাকা বকেয়া। আড়তদার ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, কোরবানির কয়েকদিন পর যা বিক্রি হয়েছে তারপর আর চামড়া বিক্রি হয়নি। ধারকর্জ করে চামড়া কিনেছি। এখনো ঢাকার ট্যানারিগুলো যোগাযোগ করছে না। আবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে থেকে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু ট্যানারিগুলো তার চেয়ে কম চামড়ার মূল্য দিচ্ছে। আমরা ট্যানারিগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।’ আড়তদার আবদুল কাদের বলেন, দুই-তিনটি ট্যানারি সীমিত চামড়া কিনেছে। আবার সরকার নির্ধারিত মূল্যও ট্যানারিগুলো দিচ্ছে না। ঢাকার ট্যানারিগুলোর কাছে এখন আগের ৪০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তারা বকেয়া টাকাও দিচ্ছে না এবং নতুন করে চামড়া কেনার আগ্রহও দেখাচ্ছে না। ফলে আমরা চামড়া নিয়ে বেকায়দায় পড়েছি।’ 

 

আড়তদার ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে কোরবানির সব চামড়া আড়তদারদের কাছে আসেনি। এখন বিভিন্ন স্থানে ফড়িয়া বিক্রেতাদের কাছে লবণযুক্ত চামড়া মজুত রয়েছে। পশ্চিম পটিয়া, আনোয়ারা, সীতাকুন্ড, হাটহাজারীসহ আরো কয়েকটি জায়গায় লবণযুক্ত চামড়া মজুত রয়েছে। অনেকেই আড়তদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কিন্তু আড়তে মজুত থাকা চামড়া বিক্রি করতে না পারায় আড়তদাররা বাড়তি চামড়া কিনছেন না।

 

ইত্তেফাক/এসি