গাংনী উপজেলার ২ নং তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ব্রিটিশ বেনিয়াদের কায়দায় ইউনিয়নবাসীর হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের যোগসাজশে বহিরাগত কয়েকজন যুবক নতুন অর্থবছরসহ ২ বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছেন।
জানা গেছে, নীলফামারী থেকে আগত অনুপম সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামক (একটি বেসরকারী সংস্থার) মাঠকর্মী পরিচয় দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এমনকি ট্যাক্স পরিশোধ না করা হলে ট্যাক্স হোল্ডারদের বাড়ি থেকে মালামাল ক্রোক করা হবে এমন হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আদায়কারীরা আদায়কৃত ট্যাক্সের শতকরা ২০ ভাগ অর্থ কমিশন হিসাবে গ্রহণ করবে।
ইউপি সচিব সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ -১৯ অর্থবছরে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয়েছিল ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯০ টাকা। গত অর্থবছরে অর্থ্যাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনার কারণে আদায় হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। এ বছর অর্থ্যাৎ ২০২০-২১ অর্থ বছরের ২৭ আগস্ট -২০২০ ইং তারিখ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১০-১২ দিনেই (বছরের প্রথম দিকেই) ট্যাক্স আদায় হয়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান, বকেয়ার বছর সহ চলতি বছর এক সাথে ২ অর্থবছরের ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। হোল্ডিং ট্যাক্স জোরপূর্বক আদায় করার কোন বৈধতা না থাকলেও চেয়ারম্যান নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২ বছরের ট্যাক্স আদায় করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চেয়ারম্যান খেয়ালখুশিমত ট্যাক্স আদায় করছেন। মাটির বাড়ি, আধা পাকা ও পাকা বাড়ি বিবেচনা না করে কক্ষ প্রতি ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা অর্থ্যাৎ বাড়ি প্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করছে। কোন বাসিন্দা অভাব অনটনের কারণে কেউ ১ বছরের ট্যাক্স পরিশোধ করতে চাইলেও তাদের সাথে অসদাচরণ, গালাগালি করে এমনকি পুলিশি ভয়ভীতি ও মালামাল ক্রোকের হুমকি দিয়ে খাজনা আদায় করছে।
আদায়কারী টিমের ম্যানেজার তারিকুল ইসলামের সাথে সংস্থার রেজিঃ নং ও ইউনিয়নে ট্যাক্স আদায় করার জন্য স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ট্যাক্স আদায় না করা হলে ওয়ার্ডের উন্নয়ন ছোটখাটো রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেম্বরদের সম্মানিভাতা দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই একসাথে ২ বছরের ট্যাক্স আদায় করছি। সাংবাদিকরা শুধু আমার ইউনিয়ন নিয়ে লেখালেখি করে অন্যান্য ইউনিয়ন নিয়ে লিখে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, উপজেলার সব কয়টি ইউপিতে সচিব, চৌকিদার দফাদার নিয়ে ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। বহিরাগত রেজিস্ট্রেশনবিহীন সংস্থার মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএম

