কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি গ্রামে সরকারি প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে ওই সম্পত্তি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অবৈধ দখলদাররা সরকারি ওই সম্পত্তিতে ইটের তৈরি পাকা স্থায়ী ইমারত নির্মাণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি মূল্যবান সম্পত্তি উদ্ধার এবং ইমারত নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধ করাসহ অবৈধভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগীয় কর্মকর্তার নিকট এ অভিযোগ দাখিল করেন মো. আনিছুর রহমান চৌধুরী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি মৌজার দীর্ঘভূমি গ্রামের মোট ৬২ শতক সরকারি ভূমি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা। উক্ত ভূমি বি.এস জরিপে সরকারের ১/১ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সরকারি ওই ভূমি বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী দখল করে নিয়েছে। গত কিছুদিন আগে উপজেলার দীর্ঘভূমি গ্রামের আনিসুর রহমান, বেজোড়া গ্রামের জালাল উদ্দিন, জাকির ভূঁইয়া, জুয়েল ভূঁইয়া, সোহেল ভূঁইয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ ভূমি দখলকারী চক্র অবৈধভাবে উক্ত সরকারি ভূমি হতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং উক্ত সরকারি ভূমিতে ইটের পাকা ইমারত নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগকারী মো. আনিছুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গত ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানালে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেন। এতে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে ব্রাহ্মণপাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কান্তি দেবনাথ সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি ভূমি থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়াসহ ওই ভূমিতে ইটের দেওয়াল নির্মাণ করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে দেখতে পান।
কিন্তু অবৈধ দখলদার ও গাছ কেটে নেয়া লোকজনের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারণে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রভাবশালীরা তাদের অবৈধ দখলকৃত সরকারি ভূমিতে স্থায়ী ইমারত নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারি স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও বন বিভাগে অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলদারদের সতর্ক করে দিয়ে সেখানে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেউ কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কর্তন করা কয়েকটি ছোট ছোট গাছ জব্দ করা হয়েছে এবং এগুলো নিলামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এমআর

