আঙুলের ছাপে মিলছে ওএমএসের চাল

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যে কেউ জানতে পারবে বিতরণ ও উত্তোলনের তথ্য
আঙুলের ছাপে মিলছে ওএমএসের চাল
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) : বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ দিয়ে উপকারভোগীরা ওএমএসের চাল কিনছেন। ছবিটি গত বৃহস্পতিবার ধামতী ইউনিয়ন থেকে তোলা —ইত্তেফাক

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় প্রথমবারের মতো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম রুখতে দেবীদ্বারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নতুন এ ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ধামতী ইউনিয়নের ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার পাশে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, ইউএনও রাকিব হাসান ও ধামতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠু উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান বলেন, হতদরিদ্র অনেকের নামে কার্ড করা হয়েছে, অথচ তারা জানেই না তাদের নামে বছরের পর বছর চাল উত্তোলন হচ্ছে। ক্রমাগতভাবে যখন অভিযোগগুলো আসছিল, তখন চিন্তা করলাম প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সঠিকভাবে চাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। তিনি আরো বলেন, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কারা চাল উত্তোলন করেছেন, কারা করেননি, তার তথ্য জানতে পারেন। ফলে চাল বিতরণে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই।

.িড়সংফবনরফধিত্.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চাল বিতরণের সময়সূচি, ডিলার তালিকা, উপকারভোগীর তালিকা, উপকারভোগীর ছবিসহ তালিকা রয়েছে। জানা যায়, ওয়েবসাইটে প্রত্যেক উপকারভোগীর তথ্যের বিপরীতে যুক্ত করা হয়েছে তার আঙুলের ছাপ। উপকারভোগী তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, ডিজিটাল আইডি নম্বর দিয়ে এতে প্রবেশ করা মাত্রই তার ছবিসহ যাবতীয় তথ্য প্রদর্শিত হয়। আঙুলের ছাপ মিললে ‘চাল উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে’, এমন ধন্যবাদ বার্তা দেখায়।

আরও পড়ুন: ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতারাই সবসময় অভিযুক্ত হয়

শুধু তাই নয়, উপকারভোগীর চাল উত্তোলনের তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার বা সার্ভারেও জমা হয়। তাছাড়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা যাবে সর্বশেষ উত্তোলন ও মজুতের চালের পরিমাণও। এ উদ্যোগের মাধ্যমে চাল কেনার পর ধামতী গ্রামের বিল্লাল হোসেন, আনোয়ারা বেগম, আবুল হাশেম, শিরিনা বেগম বলেন, আঙুলের ছাপে চাল উত্তোলন করেছি। এখন আর কেউ কারো চাল মেরে দিতে পারবে না।

ইউএনও রাকিব বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে এটি পুরোনো বিষয়। করোনাকালীন এর ব্যাপকতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অনিয়মটি চিরতরে বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করছি। মূলত এ ব্যবস্থাটি তৈরির জন্য ডিলার ও উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ধীরে ধীরে সব কটি ইউনিয়নে ব্যবস্থাটি চালু করা হবে। পুরো উপজেলার সবাইকে এর আওতায় আনব। ওয়েবসাইটি আরো হালনাগাদ করা হবে। ধামতী ইউনিয়নের ওএমএসের চালের ডিলার আবদুল মালেক বলেন, আঙুলের ছাপে চাল বিতরণ আগের চেয়ে অনেক দ্রুত দেওয়া যায়। একজনের চাল অন্যজন নেওয়ার যে ঝামেলা ছিল তা এখন আর হয় না। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘ওএমএসের চাল বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি। একই পদ্ধতিতে সরকারের অন্যান্য সেবাও দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত