সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধ: ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ আটক ২, নিহত ১

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ২১:৩৬

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের বিশেষ অভিযানে সুন্দরবনের ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত সদস্য নিহত ও  বাহিনী প্রধানসহ  দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ। 

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্টগার্ড জানায়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের কাছে খবর আসে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী'র সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অবস্থান করছে। এ প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে টানা দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং নলিয়ান স্টেশনের সদস্যরা অভিযানে নামে।

অভিযান চলাকালে দস্যুদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্টগার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেয়। সংকেত অমান্য করে বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্টগার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। দুপক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে এবং অন্য একটি বোট ডুবে যায়। অভিযান ১ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ এবং ২১৬ রাউন্ড তাজা গোলা ফায়ার করা হয়। 

কোস্টগার্ড আরও জানায়, বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী'র প্রধান রবিউল ইসলাম এবং ডাকাত শওকত সরদারকে আটক করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের ধরতে কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ডাকাত ইসরাফিল হাওলাদারকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এছাড়াও আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ১টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

আটক ডাকাত রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত ডাকাত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আটক ডাকাত ও উদ্ধার অস্ত্র-গোলাবারুদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

ইত্তেফাক/এপি