কিশোরগঞ্জে পানিবন্দি প্রায় দশ হাজার পরিবার

কিশোরগঞ্জে পানিবন্দি প্রায় দশ হাজার পরিবার
কিশোরগঞ্জে পানিবন্দি প্রায় দশ হাজার পরিবার।ছবি: ইত্তেফাক

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েকদিনের অবিরাম টানা বর্ষণের ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়া ছাড়াও পানিতে রাস্তা ডুবে থাকায় কলার ভেলা বানিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

এদিকে রবিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহ পরিদর্শন করেছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চেীধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু হাসনাত সরকার।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া,দোলাপাড়া, আকালীবেচাপাড়া, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের কবিরাজ পাড়া, বুল্লাইপাড়া, রণচন্ডি ইউনিয়নের কিসামত বীরচরন, বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি, মাছুয়াপাড়া, চাঁদখানা ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া,বোর্ডপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়া অধিকাংশ মৎস্য চাষির মাছ পানিতে ভেসে গেছে। রান্নাঘর, টয়লেট পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে একদিকে রান্না বন্ধ অপর দিকে টয়লেটের বর্জ্য পানিতে ভেসে থাকার কারণে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ডিংডিংপাড়া গ্রামের মাছচাষি মিজানুর রহমান জানান, পানি স্রোতে পুকুরের পাড় ভেঙে গিয়ে আমার পুকুরের তিন লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে।

বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের বাসিন্দা কায়রা মামুদ বলেন, ‘গত তিন দিন থেকে আমার বাড়ির রান্নাঘর টয়লেট, টিউবওয়েল পানিতে ডুবে আছে। আমাদের অন্যের বাড়িতে রান্না করে খেতে হচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারছিনা।’

আরও পড়ুন: বশেমুরবিপ্রবিতে আবারও চুরি, ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

মাগুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান শিহাব বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু হাসনাত সরকার বলেন, ‘উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে মাগুড়া ৫ হাজার, নিতাই ৪০০, পুটিমারী ১৫০, বড়ভিটা ২০০, গাড়াগ্রাম ২৫০, চাঁদখানা ২৫০, রণচন্ডি ৩০০, বাহাগিলি ২০০, কিশোরগঞ্জ সদরের ৩০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। আমরা পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাঁদখানা ও কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২৬ টি পরিবারের মাঝে নীলফামারী জেলা প্রশাসক স্যারের উপস্থিতিতে ১০ কেজি করে চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে যারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তাদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ইত্তেফক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত