চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বুড়িগঙ্গার ভাসমান আবাসিক হোটেল মালিকরা

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ১৮:২৯

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর বাদামতলী ও মিটফোর্ড হাসপাতাল ঘাট এলাকায় বিগত ৫০ বছর ধরে দিনমজুর ও হকারদের জন্য কম খরচে থাকার সেবা দিয়ে আসছে ভাসমান বোর্ডিঙগুলো। সম্প্রতি স্থানীয় চাঁদাবাজ ও মাদকসেবী বখাটেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বোর্ডিং মালিকরা। 

বোর্ডিঙগুলোর নিয়মিত অতিথি ফলের আড়তের দিনমজুর ও হকাররা। এখানে কম খরচে থাকার জন্য শরিয়তপুর বোর্ডিং, নাজমা বোর্ডিং, ফরিদপুর বোর্ডিং, বুড়িগঙ্গা ও উল্লাস নামে বেশ কয়েকটি ভাসমান আবাসিক হোটেল রয়েছে। একেকটি বোর্ডিংয়ে নিচতলা ও দোতলায় সিঙ্গেল ও ডাবল মিলে ৫৫ থেকে ৬০টি ছোট-বড়ো থাকার রুম আছে। সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ৮০ টাকা এবং ডাবল রুমের ভাড়া ১২০ টাকা।

মুন্সীগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর জেলা থেকে আগত দুইশ থেকে আড়ইশ দিনমজুর ও হকার দিনভর পুরান ঢাকার বাদামতলী ফলের আড়তে কাজ শেষে ভাসমান এসব আবাসিক হোটেলগুলো থাকেন। 

শরিয়তপুর ও ফরিদপুর আবাসিক ভাসমান হোটেলের মালিক সাত্তার হোসেন এবং মোস্তফা অভিযোগ করেন বলেন, ইদানিং স্থানীয় মাদকসেবী বখাটে ও চাঁদাবাজদের কারণে হোটেল মালিক ও হোটেলে বসবাসকারীরা অতিষ্ঠ। 

আরও পড়ুন: স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান গান বন্ধ করতে প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি, পরে হামলা

তাদের অভিযোগ, বিআইডাব্লিউটিএকে হোটেল প্রতি ১০ হাজার টাকা নবায়ন ফি, মাসে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাসহ সরকারি খাতের সকল প্রকার কর দিয়ে থাকেন। তারপরও ঘাট ইজারাদারদের এসব ভাসমান আবাসিক হোটেল থেকে প্রতিদিন দুইশ থেকে থেকে ২৫০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় মাদকসেবী বখাটেরা বিকালে ও রাতে জোড় করে হোটেল এসে বিভিন্ন মাদক সেবন করে। তাদের বাধা দিলে হোটেল মালিক হকারদের বিভিন্ন নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়।

হোটেল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, দিনের পর দিন এরকম হয়রানির ও মাদকসেবীদের অত্যাচারের স্বীকার হতে হলে হোটেল ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো। এতে নিম্ন আয়ের হকার ও দিনমজুররা বিপদে পরবে। 

এ ব্যাপার বুড়িগঙ্গা নদীর ভাসমান হোটেল মালিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

ইত্তেফাক/এসি