চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন দাবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন দাবি
শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা। ছবি: ইত্তেফাক

গত ১৯ নভেম্বর জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। সেই সঙ্গে তাদের ওপর ভর করেছে অনাগত ভবিষ্যতের চিন্তা। সেদিনের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্ত্রীদের বয়স ১৩ থেকে ২৫ বছর। এর মধ্যে কেউ সন্তানের জননী। আবার কেউ সন্তান সম্ভবা। এদের কাউ চাইছেন পড়ালেখায় ফিরতে, আবার কেউ সংসার টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছেন চাকরির সুযোগ।

সরেজমিনে কথা হয় দুর্গত ওই পরিবারগুলোর সঙ্গে। সেদিনের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একজনের স্ত্রী আসমা বেগম (১৩) নামে এক কিশোরী গৃহবধূ বলেন, আমি শিক্ষালাভের সুযোগ চাই। এখন একমাত্র শিক্ষাই আমার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

সোনামসজিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী ও একই দিনের দুর্ঘটনায় নিহত মিজানের স্ত্রী ও একই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমেনা বেগম (১৮) বলেন, সাত মাস আগে বিয়ে হয়েছে। আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চারদিকে অন্ধকার দেখছি। স্বামী দিনমজুরি খেটে যে আয় করতো তা দিয়ে সংসার ও লেখাপড়ার খরচ বহন করতো। আমার গর্ভের সন্তানটি মানুষ করা ছাড়া আর কোনো স্বপ্ন নেই। আমাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।

শারমিন বেগম (২২) বলেন, সোনামসজিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ থেকে বিয়ের পরে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে স্থানীয় একটি এনজিওতে কাজ করছি। জমি নেই। কোনো রকমে চাকরি ও কিস্তির টাকা দিয়ে একটি ঘর করে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করছি।

কাসেদ আলীর স্ত্রী এ্যামেলি বেগম (৩০) বলেন, স্বামী দিনমজুর ছিল। কিস্তিতে টাকা নিয়ে ছোট একটা ঘর তুলে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে বাস করছিলাম। কোনো সঞ্চয় নেই। তিন সন্তান। বড়ো ছেলে হাফিজিয়া মাদ্রাসায়, মেজো মেয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ও ছোট মেয়ে এখনও স্কুলে যায়নি। সন্তানরা লেখাপড়ার সুযোগ পেলে ভালো হতো।

নিহত মিঠুনের স্ত্রী তাজরিন (২০) বলেন, মাত্র চার মাস আগে বিয়ে হয়েছে। এরপর অবশ্য তিনি আর কথা বলতে পারেন নি। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তাজরিন। তার শাশুড়ি একই ঘটনায় নিহত তাজামুলের স্ত্রী বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। নিহতদের পরিবারে পুনর্বাসনের জন্য কিছু করুন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে সড়কে ঝরলো তিন প্রাণ

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ক্যাটাগরিতে পড়লে তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বী বলেন, ইতিমধ্যে নিহতদের পরিবারগুলোকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ও সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে টাকা ও খাবার দেওয়া হয়েছে। আমারা ইতিমধ্যে পরিবারগুলো অবস্থা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যারা শিক্ষিত আছেন তাদের চাকরির ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা ও বাকিদের ছাগল, ভেড়া, গরু পালন, দোকান দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসি

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত