রাণীনগরে প্রধানমন্ত্রীর পাকা ঘর পাইয়ে দিতে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাণীনগরে প্রধানমন্ত্রীর পাকা ঘর পাইয়ে দিতে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দিতে টাকা আত্মসাতের অভিযোগকারীদের একাংশ। ছবি: ইত্তেফাক

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৩৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ৬নং কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ। ইউপির আওতায় গ্রামগুলো থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো দুই বছর পার হলেও ঘর না পাওয়ায় প্রশাসনের কাছে টাকা ফেরতে পেতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই ইউনিয়নের সকল গ্রাম থেকে চেয়ারম্যান, মেম্বাররা প্রায় দুই শতাধিক সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের মাধ্যমেও কিছু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে রাতোয়াল গ্রাম থেকে। এই গ্রামের ১৩ জন ভুক্তভোগী তাদের টাকা ফেরত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে চলতি মাসের ২২ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়াও জেলার অন্য উপজেলায় ইতিমধ্যে এই ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও রাণীনগর উপজেলায় ঘর নির্মাণের কাজ এখনও দৃশ্যমান নয়।

রাতোয়াল গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ার হোসেন রাজু ও ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সহিদুজ্জামান রুবিন বেশি সংখ্যক মানুষকে ঘর দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বার হাফিজা চৌধুরীও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাতোয়াল গ্রামের শৈলগাড়িয়াপাড়ার ভুলু মৃধার ছেলে ভ্যানগাড়ি চালক মমতাজ হোসেন বলেন, পাকা ঘর দেবে এমন প্রলোভন দিয়ে চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু রাতোয়াল বাজারে মজিদের চা স্টলে আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রায় দুই বছর পার হলেও চেয়ারম্যান এখনও আমাকে ঘর দিতে পারেনি। আমি তার কাছে আর ঘর চাই না, টাকা ফেরত চাই।

রাতোয়াল গ্রামের আনিছা বেগম বলেন, রুবিন মেম্বার আমাকে ডেকে বলেন পাকা ঘর নিতে কিছু টাকা দিতে হবে। প্রথমে আমি ঋণ করে ১৫ হাজার টাকা দিই। পরে একমাত্র ফসলের জমি বন্দক রেখে রুবিন মেম্বারকে আরও ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। আজ নয় কাল বলে দুই বছর পার করেছেন মেম্বার-চেয়ারম্যানরা। আমি আর ঘর চাই না, টাকা ফেরত চাই।

১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ার হোসেন রাজু মুঠোফোনে বলেন, চেয়ারম্যান বলেছিলো সরকারের পক্ষ থেকে পাকা ঘর দেওয়া হবে। এই ঘর পেতে হলে খরচ জন্য টাকা দিতে হবে। তাই আমি যারা ঘর নিতে ইচ্ছুক তাদের কাছ থেকে খরচ হিসেবে কিছু টাকা নিয়ে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি।

২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুজ্জামান আকন্দ রুবিন বলেন আমি পাকা ঘর দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানি না। কারো কাছ থেকে টাকা পয়সা নেওয়া হয়নি।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার হাফিজা চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে চারজনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চেয়ারম্যানের হাতে দিয়ে দিয়েছি। আমার কাছে ঘর বিষয়ে কোনো টাকা নেই।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে চতুর্থ শ্রেণির দুই মাদ্রাসার ছাত্রকে দুই শিক্ষকের বলাৎকার

পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু বলেন, কতিপয় কিছু ব্যক্তি ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার কানে এসেছে। যদি আমাকে কেউ টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানায় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, পাকা ঘর দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার বিষয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসি

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত