বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নাগর নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন দুই শ্রমিক। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাতরা গ্রামে গভীর গর্তে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে এবং বালু চাপা পড়ে তারা মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত শ্রমিকরা হলেন, জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২৬) ও একই গ্রামের মোস্তফা আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন (১৮)।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার দক্ষিণ ছাতরা গ্রামের বালু ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নাগর নদে বোরিং করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। শুক্রবার তার কয়েকজন শ্রমিক বালু উত্তোলনের কাজ করছিল। এ সময় ব্যবহৃত শ্যালো মেশিনের ফিতা বোরিং করা গর্তে পড়ে যায়। ওই ফিতা তুলে আনার জন্য খায়রুল ও মোশারফ নামে দুই শ্রমিক ২০ ফুট গভীর গর্তে নামেন। এসময় তারা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তারা ছটফট করতে থাকেন। অন্য শ্রমিকরা দড়ি নামিয়ে তাদের ওঠানোর চেষ্টা করার সময় তারা গর্তে বালু চাপা পড়েন। খবর পেয়ে বিকেল চারটার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গর্তের বালু ও মাটি সরিয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনেন।
শিবগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের লিডার আব্দুল হামিদ জানান, ‘গভীর গর্তে নামার পর তারা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ছটফট শুরু করে। অন্যান্য শ্রমিকরা তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও আশপাশ থেকে মাটি চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী নাছির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন: পরাজিতদের অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করছে টিআইবি: তথ্যমন্ত্রী
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে ছাতরা এলাকায় বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিলনা।
ইত্তেফাক/অনি

