বাঘা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ ডাক্তারের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫০

রাজশাহী জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পুবে ৫০ শয্যাবিশিষ্ঠ বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে চিকিৎসার জন্য অপারেশন থেকে শুরু করে সব ধরণের যন্ত্রপাতি আছে। অথচ করা হয় না ছোট-খাটো অপারেশনও। কারণ এখানে নেই ভালো কোনো চিকিৎসক। এই মুহূর্তে কাগজে-কলমে ১০ জন ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে আছেন মাত্র তিনজন। ফলে প্রতিনিয়তই হয়রানীর শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

সরেজমিন শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার নেই। সেখানে কর্তব্যরত একজন জানান, ‘স্যার ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন। এরপর ওয়ার্ডে গিয়েও কোন ডাক্তার চোখে পড়েনি। অতঃপর বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায় রোগিরা টিকিট নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন একজন নারী হারবাল চিকিৎসকের রুমে। খোদ হিসাব রক্ষক তিনিও তখন পর্যন্ত হাসপাতালে উপস্থিত হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাক্তার জানান, ‘এখানে কাগজে কলমে  ১০ জন ডাক্তারের নাম থাকলেও এই মুহূর্তে বড়কর্তা (টি.এইচ.এ) ডা. সিরাজুল ইসলাম এবং (আরএমও) ডা: সঞ্জয় কুমার স্বাস্থ্য বিষয়ক ট্রেনিংয়ে জেলা শহর রাজশাহীত অবস্থান করছেন। এছাড়াও ডা. শাওন, ডা. কাফি ও ডা. রুকসানা এই মুহূর্তে ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় রয়েছেন। অপর একজন চিকিৎসক ডা রুকসানা কাগজে কলমে স্বাক্ষর থাকলেও তিনি কোনো দায়িত্ব পালন না করে অসুস্থতার অজুহাতে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন।’

স্থানীয়রা জানান, ‘এখানে ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। এতে করে মারাত্মক বিড়ম্বনা ও হয়রানীর শিকার হতে হয় এই অঞ্চলের রোগিদের। মাঝে-মধ্যে দু-একজন ডাক্তারকে এখানে পোস্টিং দেয়া হয়। তারা হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকেন না।’

অভিযোগ রয়েছে, এই স্বাস্থ্য বিভাগের আবাসিক কোয়ার্টারে থাকেন অবসর নেয়া হিসাব রক্ষক, পুলিশ, বহিরাগত ব্যাক্তি এবং কুকিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। 

এ বিষয়ে বাঘা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে ৩১ শয্যার লোকবল দিয়ে ৫০ শয্যা হাসপাতাল চালাতে হয়। মাঝেমধ্যে বিশেষ কারণবশত দু-একজন ডাক্তার না এলে নিরুপায় হয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য সহকারিদের নিয়ে আসি।’

আরও পড়ুনঃ শায়েস্তাগঞ্জে প্রাইভেটকার-সিএনজি সংঘর্ষে আহত ৫

তিনি ডাক্তার সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে বারবার অভিহিত করেছেন বলে জানান।

ইত্তেফাক/নূহু