বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই টিনশেড ঘরের চালার ফাঁকফোকর দিয়ে পানি এসে ভিজিয়ে দেয় শ্রেণিকক্ষের আসবাবসহ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের। হালকা ঝোড়ো বাতাসেই দুলে ওঠে ঘরটি। বলতে গেলে, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয় রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মধুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির।
সরেজমিনে জানা গেছে, মধুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির চার কক্ষবিশিষ্ট টিনশেডের একটিতে লাইব্রেরি এবং বাকি তিনটিতে শ্রেণিকক্ষ। কক্ষ সংকটের কারণে দুই শিফটে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করা হয়। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৩ সালের ১ জুলাই দ্বিতীয় ধাপে এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের অন্তর্ভুক্ত হয়। যা ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে খসড়া গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
রাঙ্গাবালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর কার্যালয়ের (এলজিইডি) তথ্য মতে, বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পিডিবি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এখনো ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অনুমোদন সাপেক্ষে ঐ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদ মাহামুদ বলেন, পুরোনো টিনশেড ঘরে ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হয়। গরমের দিনে গরম আবার বৃষ্টির দিনে ভিজতে হয়।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘সামান্য দমকা বাতাসেই দুলতে থাকে বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরটি। পাকা ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপদ পানির জন্য একটা গভীর নলকূপ স্থাপনা করা খুবই জরুরি।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘ভবন নির্মাণ করা খুবই জরুরি। কারণ প্রতিষ্ঠানটির টিনশেড ঘরটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় দুই শিফটে ক্লাস নিতে হয়। ফলে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে কিছুটা অসুবিধা হয়। এছাড়া বাথরুম ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থাও অপ্রতুল। করোনার পরে স্কুল খুললেও একই সমস্যায় পড়তে হবে স্কুলটির ছাত্রছাত্রীদের।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মধুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাকা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্টদের প্রেরণ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য আমি দ্রুত খোঁজখবর নেব।’
ইত্তেফাক/এমআর

