ঈদকে সামনে রেখে সুন্দরবনে সক্রিয় শিকারি চক্র 

আপডেট : ১১ মে ২০২১, ১৬:৫১

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পূর্ব সুন্দরবনে শিকারীচক্র ও কাঠ পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বনবিভাগ হরিণ শিকারসহ বণ্যপ্রাণি ও কাঠ পাচার রোধে সুন্দরবনে জোরদার করেছে বনরক্ষীদের নজরদারী ও টহল তৎপরতা।

বন সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা, মংলা, চাঁদপাই, মোরেলগঞ্জ, পাথরঘাটার চরদুয়ানী, জ্ঞানপাড়াসহ আশেপাশের অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একটি শিকারি ও কাঠপাচারকারী চক্র। এ চক্রটি সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে চোরাই পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাংস বিক্রি করে। ঈদ ঘনিয়ে আসলে শিকারি চক্র সুন্দরবনে হরিণ শিকারে বেপরোয়া হয়ে ওঠে।


 
শিকারি চক্রের প্রধান ঘাঁটি পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের জ্ঞানপাড়া, খলিফারহাট, এবং সদর ইউনিয়নের রুহিতা, হরিণটানা,ও পদ্মা গ্রামে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। গত এক মাসে একাধিক ঘটনায় বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংসসহ কয়েকজন শিকারী আটক হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল  রাতে শরণখোলার বনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রাম থেকে থানা পুলিশ ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই চোরা শিকারীকে আটক করে। আটককৃতরা হচ্ছে, শরণখোলা উপজেলার বকুলতলা গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের পুত্র আলীরাজ হোসেন (২০) ও মোঃ ইসমাইল হাওলাদারের পুত্র রেজাউল হাওলাদার (২২)। ১৪ এপ্রিল স্বরুপকাঠি পৌর শহরে হরিণের মাংস গোপনে বিক্রির সময় মোবাইল কোর্ট ১০ কেজি মাংস সহ মমতাজ বেগম নামে এক মহিলাকে আটক করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। শরণখোলা থানা পুলিশ ১ এপ্রিল ভোর রাতে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা গ্রামের রাস্তা থেকে পাচারকারীদের কবল থেকে সুন্দরবন থেকে ধরে আনা  ঝুড়িবন্দী ৪টি বিরল প্রজাতির তক্ষক উদ্ধার করে। কাঠপাচারকারীরা ইদের সময় প্রশাসন ও বনরক্ষীদের নজর এড়িয়ে সুন্দরবন থেকে কাঠ কেটে রাতের আঁধারে স্বরুপকাঠিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গোপনে বিক্রি করে থাকে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শরণখোলা উপজেলা সেক্রেটারি ডা. রুহুল আমীন বলেন, সারা বছরই কমবেশি শিকারি চক্র সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে থাকে কিন্তু আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধ শিকারীচক্র সুন্দরবনে হরিণ শিকারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাচ্ছি। 

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: বেলায়েত হোসেন মুঠোফোনে জানান, আসন্ন ইদের সময় শিকারিদের কবল থেকে হরিণসহ বণ্যপ্রাণী রক্ষা এবং কাঠপাচার রোধে বন বিভাগের সকল ষ্টেশন ও টহল ফাঁড়িকে বনে নজরদারী জোরদার করে টহল তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ডিএফও জানান।

ইত্তেফাক/এসজেড