চাঁদা আদায় নিয়ে দুই শ্রমিক সংগঠনের বিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২৭

চাঁদা আদায় ও শ্রমিকদের মারধরকে কেন্দ্র করে দুটি শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্বের জেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সব রুটে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে একটি শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলাচলকারী বাস থেকে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয়ের জন্য চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা এক বাস শ্রমিককে মারধর করে। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার রাতে পুলিশের তত্ত্বাবধানে বৈঠকে বসে দুই শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

তবে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চললেও দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করেন। তাদের কর্মবিরতির কারণে জেলার সব রুটে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা পিকেটিং করে যানবাহন চলাচলেও বাধা দেয়।

জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন সড়কে বাস আটকে বেআইনিভাবে চাঁদা তুলছে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ জুলমত বলেন, তাদের সংগঠন নিয়ম মেনেই শুধু বাস থেকে চাঁদা আদায় করছে। তার দাবি, জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যানের পাশাপাশি বাস থেকেও চাঁদা আদায় করছেন। অথচ বাস থেকে চাঁদা নেওয়ার অনুমতি ওই সংগঠনের নেই। এ সব বিষয় নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে ৬ বার বৈঠক হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন সমাধান হয়নি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একরামুল হক বলেন, ‘দুই সংগঠনের বিরোধ মেটাতে বুধবার রাতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরেই আলোচনার পর দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের জন্য সমঝোতা করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে সমঝোতা না হলেও সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করতে নিষেধ করা হয়েছে দুই সংগঠনের নেতাদের।’

 
ইত্তেফাক/এমএসআর