ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বিদায় নিলেও পাথরঘাটা উপজেলায় রেখে গেছে তার ক্ষতচিহ্ন। ভরা পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে অতিমাত্রায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রের নোনা পানি ঢুকে বাঁধের ভেতরে ও বাহিরে পুকুর তলিয়ে গেছে। জোয়ারের উচ্চতা কমলেও খালে-বিলে জলাবদ্ধতা থাকায় নোনা পানির কারণে রান্না ও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে আউশ বীজতলা, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, পানের বরজ, হলুদ চাষের মাঠ, কাঁচা মরিচের মাঠ। গতবারের ঘূর্ণিঝড়ের চেয়েও এবারের ইয়াসে দেড় ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। পাথরঘাটার হরিণঘাটা সৃজিত বন থেকে দুটি হরিণ লোকালয়ে এসেছে। একটি হরিণ কুকুরের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মারা গেছে। তার এক দিন পরে আরেকটি হরিণশাবক নোনাপানিতে ভেসে লোকালয়ে আসায় হরিণঘাটা ফরেস্ট অফিসে চিকিৎসা চলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ ও মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, ৮৫ হেক্টর আউশ বীজতলার বপন করা ৩৭০ হেক্টর জমির আউশ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পাথরঘাটার ২০টি পানের বরজ, সাত হেক্টর জমির মরিচ, আট হেক্টরের পেঁপে, ১৭ হেক্টর জমির হলুদ ও ২৩১ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে এই উপজেলার ১ হাজার ১৫০টি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। যার আয়তন ৫৪ হেক্টর। পুকুর ও ঘের মিলিয়ে ৬০ মেট্রিকটন মাছ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমরা বরগুনা জেলার সব উপজেলার খবর নিয়েছি। জানতে পেরেছি নদীর পাড়ের কিছু বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামতের কাজ চলছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে বেড়িবাঁধ এলাকার অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ৫৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ হয়েছে। এরই মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর

