নকশী কাঁথার কাজ করে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে বাক প্রতিবন্ধী আয়েশা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫৬

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে আয়েশা খাতুন নামে এক বাক প্রতিবন্ধী (বোবা) শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বাক প্রতিবন্ধী ওই ছাত্রী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আবুল কাশেম ও ফিরোজা বেগম দম্পতির মেয়ে।

বাক প্রতিবন্ধী ওই ছাত্রীর একাধিক শিক্ষক জানান, শিশুকাল থেকেই বোবা মেয়েটির লেখা পড়ার প্রতি ছিল চরম আগ্রহ। দরিদ্রতার কারণে মাঝে মধ্যে তার শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধের উপক্রম হলেও মেয়েটি হাল ছাড়েননি। দারিদ্রতাসহ কোন বাধাই তাকে দমাতে পারেনি। দরিদ্র পরিবারে তার মা ও অন্যান্য বাক প্রতিবন্ধী বোনদের সাথে নকশি কাঁথা শেলায়ের কাজ করে টাকা উপার্জন করে তার লেখা পড়া চালিয়ে এসেছে।

আরো পড়ুন: অব্যাহতি পাচ্ছেন দুদকের ৩৩ মামলার 'ভুল' আসামি জাহালম

স্থানীয়রা জানান, বাক প্রতিবন্ধী ওই ছাত্রীর বাবা আবুল কাশেমের সংসারে প্রথম স্ত্রী ফিরোজা বেগমের গর্ভের তিনটি মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে তিনটিই বাক প্রতিবন্ধী (বোবা) হয়। দিনমজুর বাবা আবুল কাশেম পরে অন্যত্র আর একটি বিবাহ করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা সংসার করায় আয়েশতুন ও তার অন্য মেয়েদের নিয়ে মা ফিরোজা বেগম চরম বিপদে পড়েন। পরে তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষের বিভিন্ন ধরনের নকশী কাঁথা হাতে ও মেশিনে সেলাই করে তাদের সংসার পরিচালনা করেন। প্রথম মেয়ে লেখাপড়া না জানলেও সে গৃহস্তালীর কাজে ও সেলাই কাজে খুব পটু। মেঝ মেয়ে আয়েশা সেলাই কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া শিখে বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি সমমান পরীক্ষা দিচ্ছে। ছোট বোন বিলকিস আরা উপজেলার তেঘুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।

কোন রকম কারিগরি শিক্ষা বা কোন মুক বধির বিদ্যালয়ে লেখা পড়া না শিখেই নিজ বুদ্ধিমত্তার জোরে সাধারণ বিদ্যালয়ে বাক প্রতিবন্ধী (বোবা) মেয়ে দুটি লেখা পড়া করে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় এলাকায় এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

আরো পড়ুন: পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন পূরণ করতে চায় জসিম

মেয়েটির মা তার বোবা মেয়েদের লেখাপড়ায় আর্থিক সহযোগিতার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনাসহ সকল স্তরের মানুষের নিকট দোয়া চেয়েছেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ