মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তাল পাকশীর রূপপুরের সর্বস্তরের মানুষ। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।
সকাল ১১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়ে কুষ্টিয়া-পাবনা- নাটোর মহাসড়কে অবরোধের সৃষ্টি করে।

এ সময় পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা হবিবুল ইসলাম হব্বুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পাবনা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, ঈশ্বরদী ইউনিটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আব্দুল খালেক, পাকশী ইউনিটের সাবেক কমান্ডার জাহাঙ্গির হোসেন, পাকশী ইউপির চেযারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস, সলিমপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা, পাকশী কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস পারভেজ, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন, শ্রমিক লীগ নেতা জাহাঙ্গির হোসেন, জাসদ নেতা সেলিম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, ৭২ ঘন্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতার না হলে ১০ ফেব্রুয়ারিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এই পর্যায়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহম্মেদ হোসেন ভূইয়া বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন। তারা মুক্তিযোদ্ধা হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রকৃত আসামি গ্রেফতার করা হবে। এই পর্যায়ে দেড় ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু করে।’

আরও পড়ুনঃ দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্র জাহাজ রফতানি হলো জার্মানিতে
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে পাকশীর রূপপুরে নিজ বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে অন্ধকারে পূর্ব হতে ওঁত পেতে থাকা আততায়ীরা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে (৭০) লক্ষ্য করে ৩টি গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঈশ্বরদী হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথে রাত সাড়ে ১০টার সময় এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ইত্তেফাক/নূহু

