স্ত্রীকে হত্যার দুই বছর পর ধরা পড়লো স্বামী জহুরুল

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:০৪

ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন জহুরুল ইসলাম (২১) ও মলি খাতুন (১৮)। নিজেদের হাতে সাজিয়েছিলেন একটি সুখের সংসার। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই যেন শেষ হয়ে যায় তাদের সব ভালোবাসা!

অতিরিক্ত রোজগারের আশায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্বামী। শুরু হয় দুইজনের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব। এক পর্যায়ে আল-আমিন নামে এক বন্ধুর সহযোগিতায় স্ত্রী মলিকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেয় জহুরুল। যে ভালবাসা দিয়ে শুরু তাদের সংসার, সেটা এভাবেই নৃশংস হত্যার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটে পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে। ঘটনায় মেয়েটির বাবা উপজেলার আমিনপুর থানায় জহুরুলসহ ৯ জনকে আসামি করে অপহরণ ও গুমের মামলা করেন। ঘটনার পর গা ঢাকা দেয় জহুরুল। অজানা থেকে যায় খুনের রহস্য।

ঘটনার দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর গত বৃহস্পতিবার (০৭ জানুয়ারি) রাতে পাবনার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেসটিগেশন (পিবিআই) সখিপুর থেকে জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। জহুরুলের স্বীকারক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার এইসব কাহিনী।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেসটিগেশন (পিবিআই) পাবনা জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম স্ত্রী হত্যাকারী জহুরুলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানান, ‘জহুরুল ও মলির বাড়ি একই গ্রামে। ছেলেটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতো। ঘটনার বছর খানেক আগে দুইজন দুইজনকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিয়ের পর কিছুদিন তারা সুখেই সংসার করছিল। এক পর্যায়ে জহুরুলের টাকার নেশা চাপে। সে সকালে সিএনজি নিয়ে বের হয়ে অনেক রাতে বাড়ি ফিরতে থাকে। এতে একাকিত্ব বোধ করতে থাকে মলি। সময় কাটাতে সে বন্ধু জুটিয়ে নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় জহুরুল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে মলি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এতে জহুরুলের রাগ বেড়ে যায়। সে আল-আমিন নামে এক বন্ধুর সহযোগিতায় মলিকে হত্যার পরিকল্পনা করে।’

২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল দুই বন্ধু শোবার ঘরে বালিশ চাপা দিয়ে মেয়েটিকে হত্যা করে। এরপর নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকার একটি ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়। এরপর সে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে তার স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে পালিয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন মেয়েটির কোন খোঁজ না মেলায় ১১মে মলির বাবা আব্দুর রব বাদী হয়ে জহুরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে ৯ জনের নামে গুমের মামলা করেন। এরপরই গা ঢাকা দেয় জহুরুল। সে প্রথমে নোয়াখালি ও পরে সখিপুর গিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালাতে থাকে। মামলার অন্য আসামিরাও জামিনে মুক্ত হয়।

তরিকুল ইসলাম আরও জানান, ‘গত বছরের ৫ মার্চ মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। এরপর থেকে জহুরুলকে খোঁজা হচ্ছিল। কিন্তু সে এলাকা পরিবর্তনের পাশাপাশি বারবার মুঠোফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করছিল। ফলে ধরা যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় তার অবস্থান শনাক্ত করে বৃহম্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

আরও পড়ুনঃ মোবাইল চুরির অভিযোগে প্রতিবন্ধীকে হাত-পা বেঁধে দিনভর পেটালো দুই শিক্ষক

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধী যত ধূর্তই হোক এক সময় সে ধরা পড়েই। বিকেলে  আদালতের আদেশে  তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার বন্ধু আল-আমিন বর্তমানে দেশের বাইরে মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছে। তার বিরূদ্ধেও ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/নূহু