রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চত্বরের গাছ কেটে পাখি হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বন বিভাগের তদন্ত কমিটি। গত সোমবার (৪ অক্টোবর) কমিটি বাংলাদেশ বন অধিদফতরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষকের কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আজ বুধবার (৬ অক্টোবর) প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান।
জিল্লুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটির সদস্যরা গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা রামেক হাসপাতালের পরিচালকের স্বাক্ষরিত ৩৭টি গাছ নিলামে বিক্রির দরপত্রের কপি দেখেছেন। পরিদর্শনকালে তারা হাসপাতালের গ্যারেজ ও ড্রেনের নির্মাণকাজ চলমান পেয়েছেন। তারা নির্মাণশ্রমিক শান্ত হোসেন, মন্টু মিয়া, সাগর ও রবিউল হকের সঙ্গেও কথা বলেন।
এ সময় শ্রমিকরা জানান, ঘটনার দিন একটি কড়ই ও একটি অর্জুনগাছ কাটা হয়। এ দুটি গাছেই পাখির বাসাগুলো গাছের সঙ্গে পড়ে যায়। ডালপালার আঘাতে ৬০ থেকে ৮০টি পাখির বাচ্চার মধ্যে পড়ার পরই কিছু মারা যায় এবং জীবিত থাকা বাকি পাখির বাচ্চা গুলো নির্মাণশ্রমিক ও বহিরাগত মানুষ জবাই করে নিয়ে যান।
তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটি সদস্যগণ সে সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্য মাসুদ সাহাদাৎ ও বিল্লাল হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তবে তারা জানান, তাঁরা ঘটনার সময় ছিলেন না। পরে তাঁরা অন্য মাধ্যমে গাছকাটা ও পাখির বাচ্চা মারা যাওয়ার বিষয়টি জেনেছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের কপি হাতে পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি তা প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি অর্জুনগাছ কাটা হলে উড়তে না শেখা শতাধিক পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়ে যায়। এতে কিছু পাখি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। আর কিছু পাখির বাচ্চা খাওয়ার জন্য নিয়ে যান শ্রমিক ও রোগীর স্বজনেরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এ ঘটনায় বন বিভাগ বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন ও রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান।
ইত্তেফাক/ইআ

