ধ্বংসের পথে ১৫০ বছরের টেলিগ্রাম অফিস

দর্শনীয় লাল বিল্ডিংটি রক্ষার দাবি

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯

অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নীলফামারীর সৈয়দপুরের টেলিগ্রাম অফিসটি। লাল দালানের এই বিল্ডিংটি একসময় জাঁকজমক থাকলেও এখন কাজের জন্য কেউ আসেন না। লাল রঙের এ বিল্ডিংটি অনেকের কাছে দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠলেও বর্তমানে এটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা গড়ে ওঠে সৈয়দপুরে। ঐসময় সৈয়দপুরে টেলিগ্রাম অফিসটিও নির্মাণ করা হয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের রেলপথের । আর সেই গৌরবময় ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক টেলিগ্রাফ অফিস ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবনটি। কিন্তু বর্তমানে তদারকি ও সংস্কারের অভাবে বিটিসিএলের মালিকানাধীন প্রাচীন যোগাযোগ স্থাপনাটি ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। স্থানীয়দের মতে, কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় মূল্যবান ঐ ভূসম্পত্তিটি যে কোনো সময় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যেতে পারে।

বিটিসিএল সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার পর এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে। তৎকালীন আসাম- বেঙ্গল রেলওয়ের শিয়ালদহ-শিলিগুডি রডগেজ লাইনের প্রধান জংশন ছিল সৈয়দপুর। এই ব্রডগেজ লাইনের ট্রেন চলাচল ও সিগন্যালের বার্তা দ্রুত আদান-প্রদানের জন্য স্টেশনের পাশেই প্রায় এক একর ১০ শতক জমির ওপর এই অফিসটি স্থাপন করা হয়। চুন-সুরকি, পোড়ামাটির লাল ইট এবং ভারী লোহার বিম দিয়ে এটি নির্মাণ করে ব্রিটিশ গণপূর্ত বিভাগ। খিলান আকৃতির দরজা-জানালা আজও ভবনটির প্রাচীন ঐতিহ্যের জানান দেয়। এর ভেতরে কাজের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি সুপরিসর কক্ষ নির্মাণ করা হয়। ভবনের মাঝখানের বিশাল হলরুমটি ছিল টেলিগ্রাফের মরস কোড রিসিভার। এছাড়া রয়েছে স্টাফ কোয়ার্টার ও প্রাচীন টেলিকম টাওয়ার ।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এটি উত্তরবঙ্গ ও আসাম অঞ্চলের প্রধান ম্যানুয়াল টেলিফোন এক্সচেঞ্জে রূ পান্তরিত হয় । তখন ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই অফিসটি ছিল একমাত্র ভরসা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আসাম সীমান্তে জাপানি সেনাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে এবং ব্রিটিশ সৈন্যদের রসদ সরবরাহের জরুরি ‘তারের খবর' পাঠাতে এই অফিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হতো। স্বাধীনতার পর এটি পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ এবং টেলিফোন বিভাগ, টিঅ্যান্ডটি বোর্ড, বিটিটিবি এবং সবশেষ ২০০৮ সালে বিটিসিএলের অধীনে আসে। নব্বইয়ের দশকে এখানে আধুনিক ডিজিটাল সুইচিং ও অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে রংপুর রোডে বিটিসিএলের নতুন অফিস স্থানান্তরিত হওয়ায় এই ঐতিহাসিক ভবনটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে ।

সৈয়দপুর সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক কামরুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, অফিসটি কেবল একটি সাধারণ ভবন নয়। এটি এ অঞ্চলের যোগাযোগের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল তাই অবিলম্বে এটি সংস্কার করে টেলিযোগাযোগ প্রদর্শনী কেন্দ্র বা তথ্যচিত্র জাদুঘরে রূপান্তর করার পরমর্শ দেন। এ বিষয়ে বিটিসিএল এর নীলফামারী কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক রেজাউল হক জানান, মূল ভবনটি অত্যন্ত পুরাতন। যে কোনো সময় সেটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সেটি ব্যবহার না করে সৈয়দপুর শহরের রংপুর রোড় সংলগ্ন নতুন অফিস থেকে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এনএন