তানোরে ৭ মাসেও ব্যবসায়ীর মৃত্যু রহস্য উৎঘাটন হয়নি

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৫

রাজশাহীর তানোর উপজেলার ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী হত্যাকাণ্ডের ৭ মাস পার হলেও মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন হয়নি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কলেজ ছাত্র, শিক্ষকসহ সাংবাদিক পরিবারের ৬ জনসহ মোট ১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন নিহতের স্ত্রী সেলিমা জাহান।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ জুলাই রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে মুন্ডুমালা বাজারে আসেন। সেখানে ‘হক এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে মোটরসাইকেল রেখে চলে যান। তারপর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তার খোঁজ করে না পেয়ে ১৬ জুলাই তার স্ত্রী তানোর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ১৮  জুলাই যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর পেয়ে তার পরিবার জানতে পারে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে অজ্ঞাত লাশ পাওয়া গেছে। পরে তানোর থানা পুলিশের সহযোগিতায় পাবনা আনজুমানে মফিদুল থেকে শাহজানের লাশটি নিয়ে আসা হয়।

একই দিন নিহতের স্ত্রী সেলিমা জাহান বাদী হয়ে শাহজাহানের ব্যবসায়িক পার্টনার নাবিলা এন্টার প্রাইজের মালিক আখেরুজ্জামান (সেলিম) এবং একই গ্রামের সাংবাদিক মমিনুল ইসলামসহ তার পরিবারের ৬ জনসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে তানোর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সাংবাদিক পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে ২ শতক জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল। নিহতের ব্যবসায়িক পার্টনার সেলিম এর সঙ্গে টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল।  আসামিরা পরিকল্পিতভাবে খুন করতে পারে বলে সন্দেহ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে আসামিরা দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত নন। তারা দাবি করেন তথ্যপ্রযুক্তিগতভাবে মামলাটি তদন্ত করলে এবং মোবাইল ট্র্যাকিং করলে আসল অপরাধীরা ধরা পড়বে। হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উৎঘাটন হবে।

এদিকে নিহতের স্বজনরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের তিনদিন আগের ও পরের শাহজাহান ও এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কললিস্ট উদ্ধার করে পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং চৌবাড়িয়ায় বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্তদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ করা হলে অনেক অজানা রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে। আর এজন্য তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

আরও পড়ুনঃ চান্দিনায় ভাতিজার চাপাতির কোপে আহত চাচার মৃত্যু

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম জানান, ‘মামলার তদন্ত চলছে খুব তাড়াতাড়ি তদন্ত শেষ হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু