বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রেডবিম ধ্বসে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানসুরা বেগম নিহত হয় গতকাল শনিবার। এ ঘটনায় রবিবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যার পরে মানসুরার মরদেহ গেন্ডামারা গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এদিকে নিহতের পরিবারকে এককোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
শনিবার দূপুর ১২ টার দিকে তালতলী উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রেডবি ধ্বসে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মানসুরা বেগম মারা যায়। এ সময় আহত হয় আরো ৫ শিক্ষার্থী।
বরগুনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাহবুব আলমকে প্রধান করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, তালতলীর ইউএনও, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।
এদিকে স্কুল ভবন ধ্বসে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান তারেক পলাশ। আগামীকাল সোমবার রিটের শুনানী হবে।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব জানিয়েছেন, শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, বরগুনার জেলা প্রশাসক, তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সেতু এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। অ্যাড. হাসান তারেক পলাশ জানান, তিনটি দাবি নিয়ে রিটটি করা হয়েছে।
প্রথমত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জরিপ করে ঝুঁকিপূর্র্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে ঝঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ভবন ধ্বসে নিহত মানসুরার পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
তৃতীয়ত, ভবন ধ্বসে আহত ৫ জন শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার তথা কর্তৃপক্ষকে গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে আহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আগামীকাল সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ কমলনগরে অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার ক্ষতি
উল্লেখ্য, বিদ্যালয় ভবনটি ২০০২ সালে আব্দুল্লাহ আল মামুনের মালিকানাধীন সেতু এন্ট্রারপ্রাইজ নির্মাণ করে। নির্মাণের পরপরই বিমে সামান্য ফাটল ধরেছিল। ভবনটি ঝুকিপূর্ণ ছিলো কিনা জানতে চাইলে বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমএম মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি বা প্রধান শিক্ষক ভবনটিকে ঝুকিপূর্ণ বলে তাকে এ পর্যন্ত অবহিত করেনি।
ইত্তেফাক/নূহু

