জয়পুরহাটের বানিয়াপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। শ্রক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার বানিয়াপাড়ার ভুতগাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছেন, জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের জাকিয়া সুলতানা (৬৫), পশ্চিম কড়িয়া গ্রামের ৭ মাস বয়সের শিশু হুমায়দা , কালাই উপজেলার
মোলামগাড়ীহাট এলাকার কাদিরপুর গ্রামের হেনা (৩২), জয়পুরহাট নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্রী পলাশবাড়ি উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের শারমিন (১৯), রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রিপা মূর্ম (৩)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান, বেলা পৌনে ২টার সময় এমপি নামে একটি যাত্রীবাহী বাস বগুড়া থেকে জয়পুরহাট আসার পথে জেলা সদরের বানিয়াপাড়া এলাকার ভূতগাড়ী নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ৩ শিশু সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনা স্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান, ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম।
বাসের জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ২৫ জনকে বের করেন বলে জানান স্থানীয় বানিয়াপাড়া মহল্লার শরিফ উদ্দিন। গুরুতর আহতদের মধ্যে জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে পপি (২৮), মীর্জা একরামূর কবীর (২৭), মুকুল (৩৫), আবু বকর সিদ্দিক (৪৭) ও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (৩৪), ফেরদৌস (৩৪), সিয়াবুল (২১), আলা উদ্দিন (৩৪), সঞ্জয় বিশ্বাস (২৭), মতিউর (৩৬)।
আরো পড়ুন : ঝিনাইদহে চতুর্থ আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন শুরু
এই দুর্ঘটনায় সিরাজগঞ্জের দত্তবাড়ী এলাকার একই পরিবারের ৫ জন আহত রয়েছেন। এরা হচ্ছেন, আসলাম (২৭), সোহাগী (২৩), সুরভী (২৫), ছোনেকা (৩৫) ও সাজেদা (৫৬)। এছাড়া আবেদ আলী (৫৫), সোয়ানা মিশু (১৯), কলিম উদ্দিন (৬৮), আবুল হোসেন (৬০), অরুণ মন্ডল (৬১), রাসেল (৩০), সিরাজুল (২১), প্রমীলা (২৮), জবা (২৬) ও আলমসহ (৪৩) আরও চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড: সামছুল আলম দুদু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার মো. রশীদুল হাসান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল রহমান , ইউএনও সদর মিল্টন চন্দ্র রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক ভাবে মৃত পরিবারের সহায়তা হিসাবে ২০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মেডিক্যাল এসোসিয়েশন।
দুর্ঘটনার পর পর চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি/অনি

