সন্তোষপুর বনে বানরের কোলে নতুন অতিথি

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৭

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনে ৫০টির মতো বানর গর্ভবতী। সাধারণত বৈশাখে বানরগুলো বাচ্চা প্রসব করে। এবার চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে ৩টি গর্ভবতী বানর বাচ্চা প্রসব করেছে। 

গতবার ২০টির মতো গর্ভবতী বানর বাচ্চা প্রসব করেছিলো। তার মধ্যে ৩টি বানরের বাচ্চা প্রসবের পর মারা গিয়েছিল। বাকি ১৭টি বানরের বাচ্চা এখনো জীবিত। ওই বনে ৩ শতাধিক বানর রয়েছে বলে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

বন বিভাগ জানায়, সন্তোষপুর বন উজাড়ের পর বানরগুলো চরম খাদ্য সংকটে এদিক সেদিক চলে যাওয়ায় বানরের সংখ্যা কমে গিয়েছিলো। তাছাড়া বনের অংশিদারিত্বের নামে অনুপ্রবেশকারীদের অত্যাচারও কম হয়নি বানরগুলোর ওপর। সন্তোষবনে অস্তিত্ব সংকটে পড়া বানরগুলোকে খাবার জোগাড়ের জন্য বনবিভাগ কয়েক একর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের বাগান তৈরি করে। ফলের বাগানও জবরদখল হয়ে গেলে মিডিয়ায় তোলপাড়ের কারণে বন বিভাগ ফলের গাছ লাগানো জমিতে থেকে জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করে।

প্রায় ১ হাজার একর জমিতে রাবার গছ লাগনোর পর বানরগুলোর চলাফেলার সীমানা আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। রাবার কষের উগ্র গন্ধে এক হাজার একর জমিতে এক পাও মাড়ায় না বানরগুলো। বনের কাছ থেকে রাবার বাগানের জমি লিজ দেওয়ার সময় বানরের কথা চিন্তা করে বনবিট অফিসের কাছ থেকে সীমানা করে লিজ দেওয়া হয়। ফলে জায়গা সংকটে পড়ে বানারগুলো।

অপরদিকে বনের জমি অংশিদাররা নিয়ে আনারস ও হলুদ আবাদ করছে। আনারস ক্ষেতে এক সময় বানারগুলো আসা-যাওয়া করতো। এখন আর আনারস ক্ষেতে বানরগুলো যায় না। অংশিদারদের পাহারাদারদের অত্যাচার ও অতিমাত্রায় আনারসে রাসায়সিক উপাদান ব্যবহার করায় শতশত একর আনারস ক্ষেতে বানারগুলোর যেতে অনীহার মূল কারণ বলে জানান স্থানীয়রা। 

সন্তোষপুর বনে বর্তমানে সাড়ে ৩ শতাধিক বানর রয়েছে। গতবার ২০টি বানর নতুন করে বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে ৩টি বাচ্চা মরা গেছে। এবার ৫০টির মত বানর গর্ভবতী হয়েছিল। এরই মধ্যে ৩টি গর্ভবতী বানর প্রসব করেছে। বাকিদের সময় খুব কাছাকাছি।  
সন্তোষপুর বনবিটের অফিসে ৬ জন দোকানদার ও বনবিভাগের সহায়তায় প্রতিমাসে বাড়তি খাবার হিসাবে চাল কিনে খাবার দেওয়া হয়। চাল বানরের খাবার না হলেও ক্ষুধার জ্বালায় চাল খেয়ে বানর ক্ষুধা মেটায়।

জানা গেছে, ক্ষুধার জ্বালায় বানরগুলো ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। এক মাস আগে গাছ থেকে পড়ে এক বানর পা ভেঙ্গেছে। একটি বানরের একটি চোখ নষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত গাঁজা সেবনে একজনের মৃত্যু

সন্তোষপুর বনবিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘বনে আগের মতো খাবার নেই। বন বিভাগ থেকে লাগনো গাছে ফল খায় বানরগুলো। প্রতিদিন সকালে দেওয়া হয় চাল। সন্তোষপুর বন দেখতে আসা দর্শনার্থীদের খাবার খেয়ে বানারগুলো জীবনধারণ করছে। তবে বানরগুলোর প্রতি পাহাড়ীদের হিংস্রতা কমেছে।

ইত্তেফাক/নূহু