প্রচণ্ড তাপদাহে তৃষ্ণার্ত শ্রমিকদের পাশে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ১৯:৩৩

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরম ও রোদে কষ্টদায়ক জীবন পাড় করছে শ্রমজীবী মানুষেরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম লাগব করার চেষ্টা চালিয়েছে একদল শিশু।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওটা সংগঠন এর সদস্যরা এভাবেই শ্রমিক ও মেহনতি মানুষদের হাতে কোমল পানীয় ও শরবত তুলে দিয়েছে। এ সময় তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন টিপস দিয়েছে। ৬ম শ্রেণি পড়ুয়া আল-আমিন এক রিকশাচালককে বেশি বেশি পানি খাওয়ার উপকারিকা সম্পর্কে বলছে।

তার কথা হল- প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ লিটার পানি খেতে হবে। এছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে হবে। আর কোনো প্রকার ড্রেস, জুতা, ব্যাগ ও সহায়ক বইয়ের প্রয়োজন পড়লে তা শিশুদের হাসি ফাউন্ডেশন বহন করবে।

একজন ডাক্তার হলেই ভাল মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হতে হলে বিবেকবোধের প্রয়োজন। আজকের প্রজন্ম আগামী দিনের বাংলাদেশ এ শিশুরা একথা সার্থক করে তুলেছে। এখান থেকেই হয়ত কেউ একদিন চিকিৎসক হয়ে দেশসেবায় নিজেকে ব্রত করবে।

আরও পড়ুন: জেনে নিন বাংলাদেশের পাঁচটি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের সাতকাহন

কথা হয় ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ রিকশাচালক মোতাহার হোসেনে সাথে। তার বাড়ি দ্বীপেশ্বর গ্রামে। তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে এ পেশায় নিয়োজিত। তিনি জানান, শিশুদের এমন উদ্যোগে তিনি ভীষণ খুশি। এর আগেও তিনি শরবত খেয়েছেন কিন্তু তা ছিল রাজনৈতিক কোনো পথসভা থেকে। কয়েকদিনের গরমে রিকশা চালাইতে আর ভাল লাগে না।  পানি পিপাসা নিয়ে যাত্রীদের এখান থেকে ওখানে নিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময় এ শরবত তার শরীরকে ঠাণ্ডা করেছে।

তার ভাষ্যমতে, আহ কি শান্তি লাগতাছে। অনেক গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হচ্ছে। এখন একটু শান্তি পাচ্ছি। শিশুদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘তারাই আগামী দিন আমাদের দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নেবে। তিনি সব শিশুদের জন্য দোয়া করেন যাতে সবাই লেখাপড়ায় ভাল করে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে।’

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ.এস.এম জহির রায়হান বলেন, ‘বাচ্চারা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে টিফিন টাইমে মেহনতি মানুষদের যে শরবত পান করিয়ে তাদের মধ্যে সজীবতা দিয়েছে তা প্রশংসনীয়। আমাদের স্কুলের এসব শিক্ষার্থী আমাদের গর্ব। আমরা শিক্ষকমণ্ডলী সর্বদা তাদের পাশে রয়েছি।’

ইত্তেফাক/বিএএফ