রাজশাহীর পুঠিয়া থানায় গাঁজা কেলেংকারির ঘটনায় এক এসআইকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই এসআই থানার মালখানা থেকে র্যাবের হাতে আটক ৯৬ কেজি গাঁজা থেকে ৫ কেজি গাঁজা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন।
এ ঘটনার পর ওই গাঁজাসহ র্যাবের হাতে আটক হয় তিন মাদক ব্যবসায়ী। বিষয়টি পুলিশ সুপারের কানে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই এসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
জানা গেছে, ইতিপূর্বে পুঠিয়া থানার একাধিক এসআই নানা কেলেঙ্কারীর জন্ম দেন। এর মধ্যে সাধারণ লোকজনকে মাদকদ্রব্য দিয়ে মামলা ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে পুলিশের অর্থ আদায়, প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়ায় তরুণ-তরুনীকে রাতভর থানা হাজতে আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং টাকা না দেওয়ায় মাদকসেবী হিসেবে তাদের আদালতে পাঠানো ছাড়াও রেহাই পায়নি এমনকি সাংবাদকর্মীও।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে র্যাব-৫ এর একটি দল পুঠিয়া পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি গাঁজা তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তার মাদক ব্যবসায়ীরা র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গাঁজাগুলো তারা পুঠিয়া থানার এসআই মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে কিনেছেন।
আটক মাদক ব্যবসায়ীরা হলো, পুঠিয়া পৌর এলাকার মৃত শেখ ফরিদ হোসেনের ছেলে জহুরুল ইসলাম বকুল (৩০), গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকারের ছেলে শ্রী গনেশ চন্দ্র সরকার (৩৮) এবং একই এলাকার আনছার আলীর ছেলে শিমুল ইসলাম (৩০)।
এদিকে গাঁজা বিক্রির খবর জানাজানি হলে এসআই মনিরুল ইসলামকে শুক্রবার প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন বলে পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহম্মেদ জানান।
তবে ওসি গাঁজা কেলেংকারির বিষয়টি এড়িয়ে বলে, ‘একটি মাদক মামলার তদন্তে ধীর গতির কারণে এসআই মনিরুলকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
র্যাব সূত্র জানায়, গত ২৭ এপ্রিল পুঠিয়া সদরে একটি কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি করে ৯৬ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৫ এর একটি টহল দল। পরে র্যাব বাদী হয়ে ২৮ এপ্রিল পুঠিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার পর আলামতসহ আসামীদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পুঠিয়া থানার একটি সূত্র জানায়, র্যাবের হাতে আটক ৯৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পায় এসআই মনিরুল ইসলাম। মামলার আলামত জব্দকৃত ৯৬ কেজি গাঁজা হস্তান্তরের পর তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল মালখানার পরিবর্তে থানা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাখে। সেখান থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৫ কেজি গাঁজা মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বকুলের কাছে বিক্রি করা হয়।
তবে ওই রাতে র্যাবের একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে ওই ৫ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর বকুল র্যাবকে জানায় এসআই মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে ওই ৫ কেজি গাঁজা তারা কিনেছে। বিষয়টি র্যাবের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে জানানো হলে শুক্রবার এসআই মনিরুলকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ভাঙ্গায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখল
তবে গাঁজা বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলে, ‘আটক মাদক ব্যবসায়ীরা র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। মামলা থেকে বাঁচতে তারা তার ওপর দোষ চাপিয়েছে।’
ইত্তেফাক/নূহু

