ভালো নেই ডেফলাই বেদে পল্লীর বাসিন্দারা। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ডেফলাই গ্রামে বেদে সম্প্রদায়ের লোকদের বসবাস। এদের আদিবাস কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী ও সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
২০১০ সালে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই গ্রামে বসতি স্থাপন করে বসবাস শুরু করেন। অভাব-অনটন, দুঃখ, দুর্দশা এ সম্প্রদায়ের লোকদের নিত্যসঙ্গী। অনেকে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড পাওয়ার উপযোগী থাকলেও পায়নি কোনো কার্ড। এ গ্রামে ছোট-বড় নারী-পুরুষসহ ৫শতাধিক পরিবারের প্রায় ২ হাজার লোকের বসবাস। এ বেদে পল্লীর বাসীন্দারা নানা সমস্যায় জর্জরিত।
তারা তাদের আদি পেশা না পারছেন ধরে রাখতে না পারছেন ছাড়তে। এ পেশায় এখন এ বেলা খেলে আর এক বেলা খাবার জোটে না। শিশু কিশোরীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এ সম্প্রদায়ের অনেকের জায়গা-জমি ও মাথা গোজার ঠাঁই নেই। কারো জমি থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে ঘর নির্মাণ করতে পারেনি। কাগজের তৈরি তাবু টানিয়ে তারা বসবাস করে থাকে।
এ পল্লীতে সরকারীভাবে একটি নলকূপ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। এ বেদে পল্লীর মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ব্যাঙখালী ঝোড়া (খাল)। ফলে গ্রামটি দুভাগে বিভক্ত। এ ঝোড়ার ওপর কাঠের সেতু নির্মাণের অজুহাতে সরকারি কয়েক লাখ টাকা হরিলুটের অভিযোগ রয়েছে। এ বেদে পল্লীতে নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ফলে ভুতুড়ে পল্লীতে পরিণত হয় বেদে পল্লী। বেড়ে যায় বখাটেদের উৎপাত।
এ বেদে পল্লীর বাসীন্দা মোঃ রুবেল মিয়া, নুরু মিয়া ও নুর মোহাম্মদসহ গ্রামবাসীরা জানান, ২ বছর আগে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বিদ্যুৎ বিভাগকে। আজও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি বেদে পল্লীর বাসীন্দারা। ২টি বিদ্যুৎ খুঁটি নিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে বেদে পল্লীর সামনে।
বেদে পল্লী থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য বেদে পল্লীর বাসীন্দাদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বহুবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি বলে জানান রুবেল মিয়া।
উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম বলেন, বেদে পল্লীর সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ কালীগঞ্জে কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ বলেন, যাদের ঘর নেই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তার নিকট প্রেরণ করা হলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
ইত্তেফাক/নূহু

