ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩২ °সে


ঝালকাঠির কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্ররা

ঝালকাঠির কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্ররা
দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: ইত্তেফাক।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগর ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু হাওলাদারের জমির ইরি ধান কেটে দিল ছাত্ররা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের বিভিন্ন কলেজের ছাত্ররা কৃষক বাচ্চুর এক একর জমির ধান কেটে দেয়।

আর্থিক অসচ্ছ্বলতার কারণে শ্রমিক সঙ্কট হওয়ায় এবং ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকায় ছাত্ররা কৃষকের এই ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। বংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বরিশালের আহবায়ক বিএম কলেজের স্নাতক বিভাগের শিক্ষার্থী নবীন আহম্মেদ এই দলের নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে সহযোগিতায় ছিলেন বরিশাল সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক মানবিক শাখার ছাত্র সাইদুল ইসলাম শাকিব, পটুয়া খালীর কদমতলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র আরিফুর রহমান, বরিশাল পলিটেকনিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মিশু মিয়া ও হাতেম আলী কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ সেজান।

এরা সবাই বিকেল ৩ টায় কৃষক বাচ্চুর জমিতে কাচি নিয়ে ধান কাটায় নেমে পড়েন। দলনেতা নবীন আহম্মেদ বলেন, সারা দেশে ভাল ফলন হলেও কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। এর পাশাপাশি শ্রমিক সঙ্কট থাকায় অধিক মূল্যে পারিশ্রমিক দিয়ে কৃষকের ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা নলছিটির এই ডহরপাড়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়ার জমির ধান কেটে তাকে সহযোগিতা করছি। আমরা ধান কেটে দেওয়ায় শ্রমিক মজুরি না দিয়ে কৃষক বাচ্চু মিয়া এই ধান বক্রি করে হয়তো কিছুটা হলেও লাভবান হবে।

অপর শিক্ষার্থী মিশু মিয়া বলেন, ‘আমরা এই কৃষকের শুধু ধান কেটেই দেবো না, বাড়ি পর্যন্ত ধান নিয়ে দেব।’

এই প্রসঙ্গে কৃষক বাচ্চু হাওলাদার বলেন, ‘অর্থাভাবে শ্রমিক দিয়ে আমার এই ধান কাটা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে আমার এক একর জমির ধান পানিতে মিশে গেছে। তাই অগ্রিম এই ধান বিক্রি করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হওয়ায় এবং আমি শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে এতদিন এই ধান কাটতে পারিনি। ছাত্ররা এসে আমার যে উপকার করেছে এ জন্য আমি তাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবো।’

কৃষক বাচ্চু আরো বলেন, ‘একজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক ৬শ টাকা। কিন্তু এক মন ধান ৪শ টাকায়ও বিক্রি করতে পারি না। এ অবস্থায় আমার মতো গরীবের পক্ষে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হয়নি।’

আরও পড়ুন: নাটোরে ভাবী ও ভাতিজাকে হত্যা করেছে দেবর

তিনি জানান, মগর ইউনিয়নের ডহর পাড়া গ্রামের প্রায় ২শ কৃষকের ঘরে ৪ থেকে ৫শ মন ধান মজুদ আছে। ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা তা বিক্রি করতে পারছেনা।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন