ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
৩০ °সে


রাজশাহীর আম ঈদের পর!

রাজশাহীর আম ঈদের পর!
সৌদি আরব থেকে আনা হয়েছে পরীক্ষামূলক রঙিন আমের চারা। কয়েক বছর ধরে গাছে রঙিন আম থোকায় থোকায় ঝুলছে। ছবিটি রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র থেকে তোলা —আজহার উদ্দিন

আমের শহর হিসেবে পরিচিত রাজশাহী। কিন্তু মধুমাস জ্যৈষ্ঠ চললেও বাজারে তেমন একটা আম নেই। আমের রাজ্য রাজশাহীর ফলবাজার এখন লিচুতে ঠাসা। বাজার ছাড়াও বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত সবখানেই লিচু আর লিচু। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকেই এবার রাজশাহীর বাজারে রাজত্ব করছে এই মৌসুমী ফল। অপরিপক্ব আমের বাজারজাত ঠেকাতে গত কয়েক বছরের মতো এবারো আম নামানোর সময় বেঁধে দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী, পহেলা জ্যৈষ্ঠ থেকেই গুটি জাতের আম নামানোর অনুমতি রয়েছে। আর উন্নত জাতের গোপালভোগ পাড়ার সময় শুরু হয়েছে গত ২০ মে থেকে। এখন বাজারে কিছু গুটি জাতের আমের দেখা মিললেও গোপালভোগ পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে।

চাষিরা বলছেন, জেলা প্রশাসন ছক কষে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দিলেও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন জাতের আম এখনো গাছে পরিপক্বতা পায়নি। এর ওপর দাবদাহের মধ্যে রমজান মাস চলছে। ফলে আমের পরিপক্বতার এই সময়টাকে মুনাফা হিসেবেই দেখছেন তারা। সাধারণত রমজান মাসে আমের ব্যবসায় ভাটা থাকে। আর আমের পরিপক্বতায় আরো সময় হাতে আছে। তাই এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে ঈদের পর মৌসুমের পুরো বাজারটা ধরতে চান রাজশাহীর আমচাষিরা।

রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম এলাকার আমচাষি ও ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় মতে এখনই অনেক গাছ থেকে আম নামানো যাবে। কিন্তু গাছে রাখলেও ক্ষতি নেই, বরং লাভই আছে। একদিকে আমে পরিপক্বতা আসবে অন্যদিকে ঈদের পরের বাজারে কেবল আমই থাকবে। এতে ব্যবসাও জমে উঠবে, মুনাফাও বাড়বে।

সময় বেঁধে দেওয়া ও আম ভাঙা প্রসঙ্গে রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিমউদ্দিন বলেন, আম যখন আসবে তখনই বাজার জমে উঠবে। দেরি হলেও কোনো ক্ষতি নেই। আবার নামানোর ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেওয়ায় কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে গাছে এখনো আম পরিপক্ব হচ্ছে, এটা হতেই পারে। এটা স্বাভাবিকভাবেই দেখা উচিত।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে রাণীপছন্দ, ২৮ মে থেকে খিরসাপাত বা হিমসাগর এবং ২৬ মে থেকে লক্ষণভোগ বা লখনা জাতের আম নামানো যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, রাজশাহীতে এ বছর আমের গাছ রয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। আমের উত্পাদনও খুব ভালো হবে বলে তারা আশা করছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন