জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের প্রশ্রয়ে নৌপথে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আটক ৭

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ১৮:১২

সিলেটের বিভিন্ন নৌপথে বেড়েছ চাঁদাবাজির ঘটনা।অভিযোগ উঠেছে, আইনশৃংখলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়ে নদী পথের বালি-পাথর পরিবহন ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের খপ্পরে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঘটছে রক্তক্ষরণ।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ সীমান্তের চলতী নদীতে গত এপ্রিল মাসে চাঁদাবাজির ঘটনায় ইব্রাহিমপুর গ্রামের যুবক মিজানুর রহমান মিজান খুন হন।

সোমবার সুনামগঞ্জের পৌর শহরের লক্ষণশ্রীরি এলাকার সাহেব বাড়ি নৌকা ঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগে র‌্যাবের-৯ অভিযান চালায়। এ সময় শহর ও শহরতলীর আবুল কালাম (৩০), দুলু (২২), মাজহারুল ইসলাম (২৪), সাজ্জাদ আলী (১৯), সেলিম (২৬), কাছম আলী (২৯), ফরহাদসহ (২৪) সাতজনকে আটক করা হয়। 
  
অন্যদিকে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চেঙ্গেরখাল নদীতে চাঁদাবাজিতে জড়িত আনফর ও মনফরের নির্মিত ঢেরা গত সোমবার গুড়িয়ে দেওয়া হয়।  

সূত্র জানায়, সিলেট সদর উপজেলার চেঙ্গেরখাল নদীর জালালাবাদ ইউনিয়ন অংশে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক নৌকা থেকে লক্ষাধিক টাকা তুলে নিচ্ছে চাঁদাবাজ চক্র। অভিযোগ উঠেছে, এর সঙ্গে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি জড়িত রয়েছেন। 

স্থানীয়রা জানান, ইজারা ছাড়াই একটি চক্র টাকা তুলছে এবং চাঁদার টাকার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে তরুণদের মধ্যে বিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

জালালাবাদ ইউনিয়নের কালারুকা তথা চেঙ্গেরখাল নদীর ইলঙ্গির বিলের কাড়া নামক স্থানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে জানায় স্থানীয়রা। 

কোম্পানীগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া পাথরবাহী কার্গো এমভি মোহনা-২ এর চালক বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত ২২ মে তার কাছ থেকে জোর করে দেড় হাজার চাঁদা টাকা নেওয় হয়।এমভি মিরাকা-৬ এর চালক জাকারিয়া জানান, তার কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে দুই হাজার টাকা নেয় চাঁদাবাজরা। 

আরও পড়ুন: ৪ লাখ মানুষ পাচ্ছে আর্সেনিক মুক্তি পানি

এমভি মিরাকা-৬ এর মালিক মতিন মাতোব্বর বলেন,  চাঁদা না দেওয়ায় তার কার্গো এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে চাঁদা দিয়ে কার্গো ছাড়িয়ে নেন।

সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ জানান, এখানে কোনো বৈধ ইজারাদার আছে বলে জানা নেই। জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনফর আলীর বলেন, তার লোকজন চাঁদা আদায় করেনি। 

ইত্তেফাক/অনি