ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
৩২ °সে


জিন তাড়ানোর নামে শারীরিক নির্যাতনে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

জিন তাড়ানোর নামে শারীরিক নির্যাতনে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা
সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ছবি: গুগল ম্যাপ থেকে

সিদ্ধিরগঞ্জে জিন তাড়ানোর কথা বলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কবিরাজ দম্পতির বিরুদ্ধে। বুধবার দিবাগত রাতে কবিরাজের নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহত শাহনাজ আক্তার শিখা (২৫) ঢাকার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। তার স্বামী বিদেশ থাকে। এ ঘটনার কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিনকে আটক করেছে পুলিশ। ফারুক মিজমিজি চৌধুরীপাড়া বিল্লাল সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও আব্দুল মতিনের ছেলে।

নিহত শিখার মা সুরাইয়া বেগম জানান, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কবিরাজ ফারুক হোসেনের খোঁজ পান তারা। মেয়েকে ভালো করার জন্য কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন দম্পতির সঙ্গে ১০ হাজার টাকায় চুক্তিও হয়। কবিরাজ অগ্রিম ৭ হাজার টাকা নেয়। প্রথমে ঝাড়-ফুকের মাধ্যমে চলে চিকিৎসা। এক পর্যায়ে কবিরাজ দম্পতি বলে আপনার মেয়ের ওপর থেকে খারাপ আছর বিদায় করতে হলে তাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে হবে। পরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি চৌধুরিপাড়ায় কবিরাজের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসা হয় শিখাকে। কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন চিকিৎসার নামে শুরু করে শারীরিক নির্যাতন। শিখার প্রচণ্ড চিৎকারেও থামেনি তাদের নির্যাতন। মেয়ের চিৎকার দেখে প্রতিবাদ করলে তারা বলে, 'আমরাতো আপনার মেয়েকে মারছি না। মারছি তার সঙ্গে থাকা খারাপ জিনকে। আর চিৎকার সে করছে না, করছে ওই খারাপ জিন। আপনার সহ্য না হলে পাশের ঘরে গিয়ে বসে থাকেন।'

এক পর্যায়ের কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন শিখার হাত পা বেধে ফেলে। পরে বুকের ওপর উঠে আঘাত করতে থাকে। মুখে কাপড় ঢুকিয়ে গলা চেপে ধরে রাখে। এভাবে চলে দুই দিন। সুরাইয়া বেগম জানান, 'বুধবার দুপুরে মেয়েকে কবিরাজের বাড়ি রেখে সাদ্দাম মার্কেট নিজে বাড়িতে যাই ব্যক্তিগত কাজে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় কবিরাজ ফারুক ফোন করে বলে আপনার মেয়েকে খারাপ জিন টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আপনি তাড়াতাড়ি আসেন। এ খবর শুনে কবিরাজের বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়েকে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। আমাদের ব্যক্তিগত ডাক্তারকে খবর দিলে সে এসে দেখে শিখা মারা গেছে কয়েক ঘণ্টা আগে।'

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে বাজারে লেগুনা পার্কিং নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এইচ এম জসিম উদ্দিন জানান, 'কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় শিখা নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে শিখার লাশ উদ্ধার করেছি। কবিরাজ দম্পতিদের আটক করেছি। শিখার মা এ ঘটনায় রাতেই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।'

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন