রাজাকার মাহবুবের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি কুমুদিনী পরিবারের

রাজাকার মাহবুবের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি কুমুদিনী পরিবারের
রাজাকার মাহবুবের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন কুমুদিনী পরিবার ও স্থানীয়রা। ছবি: ইত্তেফাক

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় উপ মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর শহীদ রণদা প্রসাদ সাহা (রায়বাহাদুর) ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে হত্যা ও গণহত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার রাজাকার কমান্ডার মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদের পুত্র রাজাকার মাহবুবুর রহমান (৭০) ওরফে মইবার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন কুমুদিনী পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যসের ট্রাইবুনাল এই রায় দেন। শুক্রবার কুমুদিনী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা এই দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, মাহবুবুর রহমান মইবার পিতা মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ ছিলেন ১৯৭১ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাক হানাদর বাহিনীর সহচর এবং রাজাকার কমান্ডার। পিতার সহযোগী ছিলেন পুত্র মাহবুবুর রহমান ও আব্দুল মান্নান। সে সময় মাহবুব ও মান্নান ছিল টগবগে যুবক।

কুমুদিনী পরিবারের অন্যতম সদস্য ও সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভাষা সৈনিক প্রিন্সিপাল প্রতিভা মুৎসুদ্দি এবং রণদা প্রসাদ সাহার পুত্রবধূ শ্রী মতি সাহা জানিয়েছেন, রাজাকার কমান্ডার মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, তার পুত্র মাহবুব ও মান্নান এলাকায় অপহরণ, লুটপাট, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ করেছে। মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রাম, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী হাসপাতাল, নার্সিং স্কুল এবং ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার বড় মেয়ে জয়া ও ছোট মেয়ে বিজয়াসহ কুমুদিনী পরিবারের সদস্যদের তারা হুমকি দিয়েছে দেশ ছেড়ে চলে যেতে।

পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে ওই রাজাকাররা মির্জাপুর সদরের আন্ধরা সাহাপাড়া, কুতুববাজার, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, সরিষাদাইর ও পালপাড়ায় ঢুকে অত্যাচার, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গণহত্যা চালায়। ওই সব এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু কিশোরকে হত্যা করে বংশাই ও লৌহজং নদীতে ফেলে দেয়।

আরও পড়ুন:জার্সির ভেতরে পুলিশ সুপারকে ৭ লাখ টাকা ঘুষ

সেদিন যাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল তারা হলেন, মির্জাপুর গ্রামের কমলা সাহা, সুভাষ সাহা, মধু সাহা, সুধাম চন্দ্র সাহা, ঊমাচরন, ধীরেন নাথ সাহা, গদাচরন সাহা, কেরুশীল, রংলাল সাহা, নিতাই চন্দ্র, আন্ধরা গ্রামের গৌরগোপাল সাহা, গঙ্গাচরন, পদসাহা, কান্দু সাহা, সরিষাদাইর গ্রামের ভবেন্দ্র সাহা, রঞ্জিত সাহা, নিতাই সাহা, ভোলানাথ, গনেশ সাহা, দুর্গাপুর গ্রামের কানাই সাহা, রাখাল চন্দ্র সাহা, সুরেশ, ভবেশ মণ্ডল, বাইমহাটি গ্রামের রঞ্জিত সাহা, নগীনা বাশফৈর, কান্ঠালিয়া গ্রামের জগদীশ বকসী, সাধু মালী, পুষ্টকামুরী গ্রামের ডা. রেবুতী মোহন, ফনিন্দ্র নাথ সাহা, মাজম আলী ও জয়নাল আবেদীনসহ আরও অনেক নিরীহ বাঙ্গালী।

এই রাজাকার আলবদর বাহিনী ও নরঘাতকরা ৭ মে উপ মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা রায় বাহাদুর ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে না পেয়ে নারায়ণগঞ্জের খানপুর বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। তারপর আর কোনো খোঁজ মেলেনি তাদের।

এ ব্যাপারে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লি. এর ব্যবস্থাপক (এমডি) ও শহীদ দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার একমাত্র পৌত্র রাজিব প্রসাদ সাহা বলেন, ৪৭ বছর কি ভাবে কেটেছে তা এক মাত্র আমরাই জানি! বর্তমান সরকার আমার দাদু ও আমার বাবার খুনিদের বিচারের আওতায় এনে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন। আমরা চাই এই রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।

ইত্তেফাক/অনি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত