ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


সিরাজগঞ্জে এক গৃহবধূর মুখে এসিড নিক্ষেপ

সিরাজগঞ্জে এক গৃহবধূর মুখে এসিড নিক্ষেপ
মুখে এসিড নিক্ষেপের শিকার গৃহবধূ আঙ্গুরী বেগম। ছবি: ইত্তেফাক

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে আঙ্গুরী খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধর মুখে এসিড ছুড়ে ঝলসে দিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। বুধবার রাতে গৃহবধূকে ঢাকা এসিড সার্ভাইভর ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়েছে। এসিড সার্ভাইভর ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার রুনা লাইলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে তাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে এসিড সার্ভাইভর ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়।

গৃহবধূ আঙ্গুরী খাতুন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরদোগাছী গ্রামের শাহাদত হোসেনের স্ত্রী ও রায়গঞ্জ উপজেলার বাসুরিয়া গ্রামের জয়নাল আবদীনের মেয়ে।

গৃহবধূ আঙ্গুরী খাতুনের পিতা জয়নাল আবদীন বলেন, প্রায় ৩ বছর আগে শাহাদতের সঙ্গে বিয়ে হয় আঙ্গুরীর। মঙ্গলবার রাতে আঙ্গুরীর শ্বশুর ফোন করে জানায়, আঙ্গুরী রাতে ঘরে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে কে বা কারা এসিড ছুড়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে দ্রুত সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এসিড সার্ভাইভর ফাউন্ডেশন আঙ্গুরীর পাশে দাঁড়ায়। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এসিড সার্ভাইভর ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আঙ্গুরীর শ্বশুর, তার চাচাতো ভাই সুজাব আলী ও ভাতিজা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন গত ১৫ দিন আগে তাদের খড়ের পালায় আগুন ধরিয়ে দেয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আঙ্গুরীর ওপর এসিড হামলা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

এসিড সার্ভাইভর ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার রুনা লাইলা বলেন, ‘আঙ্গুরীর ওপর পরিকল্পিতভাবে এসিড ছুড়ে মারা হয়েছে। তার মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।’

সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শামীমুল ইসলাম বলেন, ‘আঙ্গুরীর মুখে এসিড অথবা ক্যামিকেল ছুড়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা করে বলা যাবে আসলে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে কি না। তবে তিনি ভালো আছেন। ৭ শতাংশ ঝলসে গেছে।’

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি বৃদ্ধি

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। আমরা বলেছি মামলা দিতে। কিন্তু তারা এখনও আসেননি। মামলা দায়ের করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন