ঢাকা রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


বাগমারায় পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতির বলি রিয়াজ ও বিরেন

বাগমারায় পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতির বলি রিয়াজ ও বিরেন
বিদ্যুতের সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান বিদ্যুতকর্মী রিয়াজ ‍উদ্দিন। ছবি: ইত্তেফাক

রিয়াজ ও বিরেন চন্দ্র অকালে প্রাণ হারিয়েছেন বৈদ্যুতিক পোল থেকে বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময়। নিঃস্ব তাদের পরিবার। তাদের এই অকাল মৃত্যুর দায় না নিয়ে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে পল্লী বিদ্যুৎ। পরিবারের দাবি, তারা পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন দুর্নীতির বলি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে উপজেলার হটাৎপাড়া গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে তারে জড়িয়ে রিয়াজ উদ্দিন নামে এক বিদ্যুৎ কর্মীর মৃত্যু হয়। এর প্রায় দেড় বছর আগে একইভাবে উপজেলার দেওলা গ্রামের একটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে একই ভাবে প্রাণ হারান আরেক বিদ্যুৎ কর্মী বিরেন চন্দ্র।

গত সপ্তাহে নিহত রিয়াজ উদ্দিনের মৃত্যুর তিনদিন পর নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগামারা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিবাদ পাঠিয়ে দাবি করেন, নিহত রিয়াজ উদ্দিন তাদের কর্মী ছিল না। অথচ এর আগে দুর্ঘটনার দিন তিনি বলেছিলেন, রিয়াজ উদ্দিন ছিলেন তাদের নিয়মিত কর্মী।

ডিজিএম রেজাউল করিম প্রথমে স্বীকার করলেও পরে অস্বীকার করেন রিয়াজ উদ্দিন তাদের কর্মী ছিলেন না।

একইভাবে বিরেন চন্দ্র দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সময় বার বার ভোল পাল্টে নিজের মত পরিবর্তন করেছিলেন এই ডিজিএম রেজাউল করিম। সে সময় বিরেনের পরিবারের একজনকে পল্লী বিদ্যুতে চাকরি ও তাদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রলোভনে দেখান তিনি। এতে বিরেনের পরিবার পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মামলা না করায় লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই সৎকার করা হয়।

রিয়াজের পরিবারকে একই প্রলোভন দিয়ে মামলা থেকে বিরত রাখা হয়। এখন পল্লী বিদ্যুৎ আনুষ্ঠানিক ভাবে দাবি করে বলেছে, রিয়াজ উদ্দিন তাদের কর্মী ছিলনা। গত মঙ্গলবার নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম রেজাউল করিম স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে এ দাবি করে একটি প্রতিবাদ পাঠিয়ে তা পত্রিকায় ছাপানোর জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। এর আগে তিনি রিয়াজ উদ্দিনেকে তাদের নিয়মিত কর্মী বলে দাবি করেছিলেন। ঘটনার তিন দিনের মাথায় এভাবে কেন কথা পাল্টালেন এর সদুত্তর দিতে পারেননি ডিজিএম মো. রেজাউল করিম।

নিহত বিদ্যুৎ কর্মী রিয়াজ উদ্দিনের স্বজনরা দাবি করে বলেন, তিনি বিগত ২০/২২ বছর ধরে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগামারা জোনাল কার্যালয়ে কাজ করছেন। প্রথমে মিটার রিডার হিসাবে কাজ করলেও পরে নিয়মিত কর্মী হিসাবে কাজ করেন। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় সকল কর্মী ও স্থানীয় ৩০/৩২ জন লোকজন একই তথ্য দিয়েছেন।

হাটৎপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক রেখা খাতুন ও রেজাউল করিম জানান, ওই দিন রিয়াজ উদ্দিন সংযোগ দেওয়ার আগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে খুঁটিতে ওঠেন। তাদের মতে সেখানে সংযোগ বন্ধ না করে ভুল বার্তা দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম রেজাউল করিম ও পল্লী বিদ্যুতের দুজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন এই দুর্ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র মতে, ওই তদন্তে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের অনেকেই ফেঁসে পেতে পারেন এমন আশংকাতেই তারা এখন রিয়াজ উদ্দিনকে অস্বীকার করতে চাইছেন।

অপর দিকে পল্লী বিদ্যুৎ বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি চক্র ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। তারা নিহত রিয়াজ উদ্দিনকে অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হয়নি। এখন তাকে মিটার চোর বানানোর পাঁয়তারা করছেন।

আরও পড়ুন: বিদ্যুতের সংযোগ দিতে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু

নিহত রিয়াজ উদ্দিনের ছোট ভাই এরাশাদ আলী বলেন, তার ভাইয়ের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম রেজাউল করিম প্রতারণা করেছেন। তিনি নিজে চাকরি বাঁচাতে ভাইকে চোর সাজানোর চক্রান্ত শুরু করেছেন।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম মুঠোফোনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রিয়াজ উদ্দিন শেখ এক বছর ধরে পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে কাজ করেননি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। হটাৎপাড়া গ্রামের তিন বাড়িতে কিভাবে রিয়াজ উদ্দিন মিটার স্থাপন করলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব নিয়ে তদন্ত চলেছে।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন