ঢাকা রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২২ আগস্ট, প্রস্তুতি নিয়েছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২২ আগস্ট, প্রস্তুতি নিয়েছে মিয়ানমার
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করার জন্য টেকনাফের কেরুনতলীতে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: ইত্তেফাক

২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে। এ দিন ৩ হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে স্থল ও নৌ পথে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মিয়ানমার সরকার। গত জুলাই মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থুর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিম উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে প্রত্যাবাসনের দৃশ্যত প্রস্তুতি গ্রহণ করে দেশটি।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার নুরুল আলম নেজামীর নেতৃত্বে প্রত্যাবাসন টাক্সফোর্সের এক বৈঠক রবিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত আরআরসি শামসুদৌজা নয়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম সরওয়ার কামালসহ সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার নুরুল আলম নেজামী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন শেষ পর্যায়ে কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো এ কার্যক্রম আরো বাড়ানো হবে।

আরো পড়ুন: ঘুষ যিনি খান ও দেন উভয়ে অপরাধী: প্রধানমন্ত্রী

সূত্র জানায়, উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বাস। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা প্রাণ রক্ষায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। শরণার্থী হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু এর সফলতা আসছিল না। গত জুলাইয়ে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থুর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিম উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন।

টিমের সদস্যরা দুই দিনে কয়েক দফায় ক্যাম্পগুলোতে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের ফেরত যেতে অনুরোধ জানান। সেসময় সফরকারী টিমের সঙ্গে যুক্ত হন আসিয়ানের ৫ সদস্যর প্রতিনিধি দল। রাখাইনে রোহিঙ্গারা ফিরে কি কি সুবিধা ভোগ করবে, জীবন-জীবিকা কিভাবে নির্বাহ হবে ও অন্যান্য অবস্থার কি পরিবর্তন হয়েছে, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ডেলিগেশন টিম। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের লিফলেটও বিতরণ করা হয়। তারা ফিরে যাবার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে মিয়ানমার।

এদিকে, নিজ দেশে ফিরে যেতে অধীর আগ্রহী অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে রাখাইনে ফিরেও গেছেন। কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে প্রত্যাবাসন বিরোধী উগ্রপন্থী ও উস্কানি দাতাদের নিবৃত করা সম্ভব না হলে ফের হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দুল আমিন জানান, মিয়ানমার টিমের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গারা নিজ জন্মভূমিতে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছিল।

কুতুপালং ২নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা এআরএস পিএইচ সভাপতি (আরকান রোহিঙ্গা ফর সোসাইটি হিউম্যান রাইটর) এর নেতা মহিবুল্লাহ বলেন, তাদের মৌলিক অধিকার পূরণ হলে একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশে থাকবে না। স্ব-ইচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাবে। তবে, নাগরিকত্ব দিয়েই তাদের রোহিঙ্গা মুসলমান হিসাবে গ্রহণ করতে হবে বলে দাবি তার।

আরো পড়ুন: সাকিবের সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়নি : রিয়াদ

বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা জবর মুল্লুক জানান, বর্ডার খোলা ফেলে যেভাবে এসেছি সেভাবে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে আগ্রহী। কিন্তু জানমালের নিরাপত্তার অভাবে কেউ মুখ খুলে বলতে পারছে না। কারণ ইতোপূর্বে এ ধরণের ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা হত্যার শিকার হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের দাবি, মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং তাদের উপর সংঘটিত নির্যাতনের বিচারের নিশ্চয়তা না পেলে রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে লাভ নেই। এটি জোরালো হলে ২২ আগস্টের চেষ্টাও ফলপ্রসূ হবে কি না এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, মিয়ানমার নিয়মিত তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের যাচাইকৃত তালিকা দিচ্ছে। সম্প্রতি ছাড়পত্র দেয়া ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। সবকিছু ঠিক থাকলে সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম মৈত্রী সেতু ও টেকনাফের নাফ নদীর কেরুনতলীর প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে ওই সব রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। রোহিঙ্গাদের জন্য ওখানে একটি কাঠের সেতু এবং আধা সেমি পাকা ৩৩টি ঘরও নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে ৪টি শৌচাগার। এটি দেখভাল করার জন্য ১৬ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে একটি বৈঠক রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা ফেরত নেয়ার ব্যাপারে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা পালন করতে সবসময় প্রস্তুত আমরা।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন