ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে আরএমও চলে যান নোয়াখালী

বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে আরএমও চলে যান নোয়াখালী
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

ঘড়ির কাটা যখন সকাল ৯টা, তখনও চিকিৎসকদের কেউ হাসপাতালে আসেননি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আসেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. কামরুল হাসান। ডিজিটাল হাজিরা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান নোয়াখালীতে।

এ সময় জরুরী বিভাগে রোগী দেখেন ওই উপজেলার সাহেবাবাদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আরিফুল ইসলাম। এমন চিত্র কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানে আসা রোগীরা।

জানা গেছে, জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গিয়ে দেখা যায়, দুই তলা বিশিষ্ট ৫০ শয্যার ওই হাসপাতালের নীচতলায় জরুরী বিভাগে রোগী দেখছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আরিফুল ইসলাম। তিনি উপজেলার সাহেবাবাদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত।

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুন খান হজে আছেন এবং আরএমও ডা. কামরুল হাসান ছুটিতে। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহিদা আক্তারের পরিবর্তে আমি রোগী দেখছি। পাশের দুইতলা ভবনে ডাক্তারদের ১, ২, ৩ ও ৪নং কক্ষে চিকিৎসক না থাকলেও ঘুরছে ফ্যান, আর জ্বলছে বৈদ্যুতিক লাইট। অফিস সহকারী সানি আক্তার জানান, স্যারেরা এখনও আসেননি। তারা ১০টা থেকে ১১টার দিকে আসবেন।

ভবনের ১১নং কক্ষে কথা হয় রোগীদের টিকেট প্রদানকারী ভারপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, চিকিৎসক এলেই কেবলমাত্র আমি টিকেট দিয়ে থাকি।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৪নং কক্ষের রোগী তানহার বাবা ওই উপজেলার বাগরা গ্রামের কামরুল হোসেন, রোগী নুসরাত জাহানের মা রামনগর গ্রামের শিরীন আক্তার জানান, গতকাল (বুধবার) ডাক্তার রোগীদের দেখে গেছেন, কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) এ পর্যন্ত কোনো ডাক্তার আসেননি।

তবে হাসপাতালের নার্স শাহিনুর আক্তার জানান, স্যারেরা (ডাক্তার) বেলা ১১টায় রাউন্ড দিবেন, তখন সকল রোগী দেখা হবে। এ সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায় মেডিক্যাল অফিসার ও ইপিআই এর ৫ ও ৮নং কক্ষ। এরমধ্যে কুমিল্লা নগরীর বাসা থেকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালে উপস্থিত হন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসিনা সুলতানা, সোয়া ১০টার দিকে উপস্থিত হন ডেন্টাল সার্জন ডা. খুরশিদা রহমান এবং ১১টার দিকে হাসপাতালে এসে ডা. তাছলিমা বেগম ডিজিটাল হাজিরা দেন।

এদিকে দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিজিটাল হাজিরা অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের ডা. কামরুল হাসান (আরএমও) ৯টা ৩৫ মিনিট ৮ সেকেন্ড, ডা. মো. এনামুল হক ৯টা ৫০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড, ডা. শাহিদা আক্তার ১০টা ৩৯ মিনিট ২৩ সেকেন্ড, ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা ১১টা ৩২ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে হাজিরা দিয়েছেন এবং ডা. জুনায়েদুর রহমান ছুটিতে আছেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাভারে প্রাইভেটকার চালক এবং জাবিতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাত হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন চিকিৎসকের মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুন খানসহ ২জন ছুটিতে আছেন। ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরএমও ডা. কামরুল হাসান ছুটি নেননি। মোবাইল ফোনে জেনেছি সকালে হাজিরা দিয়ে ডা. কামরুল হাসান নোয়াখালী চলে গেছেন। হাজিরা দিয়ে কর্মস্থল থেকে এভাবে চলে যাওয়া দায়িত্বহীনতার পরিচয়। যারা বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিত হন তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন