ঢাকা সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


কেবল তর্ক করার কারণে শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করে আব্বাস

কেবল তর্ক করার কারণে শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করে আব্বাস
ঘাতক আব্বাস। ছবি: ইত্তেফাক

সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও তার দুই মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিলো হত্যাকারী মোঃ আব্বাস (৪০)। শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে মিজমিজি পাইনাদী সিআইখোলাস্থ আনোয়ারের মালিকানাধীন ভবনের একটি ফ্লাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় আব্বাস। পরে বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খানসামার কাজ করছিলো। এ সময় ডিবি পুলিশ ঘাতক তাকে গ্রেফতার করে।

ঘাতক আব্বাস পটুয়াখালী জেলার পক্ষীয়া গ্রামের কালাম মুসুল্লীর ছেলে। সিদ্ধিরগঞ্জের বাতান পাড়া এলাকার সাহাবুদ্দিনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া আব্বাস ডেকোরেটরের দোকানে খানসামার কাজ করত।

জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত গৃহবধূ নাজনিন আক্তারের স্বামী সুমন বাদী হয়ে আব্বাসকে একমাত্র আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং- ৪৯) দায়ের করেন।

মামলা সুত্রে জানা যায়, সুমনের স্ত্রীর বড় বোন ইয়াসমিনের সঙ্গে তার স্বামী আব্বাসের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিলো। বিভিন্ন সময় কলহের কারণে তার স্ত্রী নাজনিনের বড় বোন ইয়াসমিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় আব্বাসের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে আব্বাস ও তার স্ত্রী ইয়াসমিনের ঝগড়া হয়। পরে নাজনিনের ভাই হাসান বড় বোনের স্বামী আব্বাসকে মারধর করে।

পরদিন বুধবার শ্যালক হাসান তার বড় বোন ইয়াসমিন ও তার মেয়ে সুমাইয়াসহ সুমনের মিজমিজি পাইনাদী সিআইখোলাস্থ আনোয়ারের মালিকানাধীন ভবনের ভাড়া বাসায় চলে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে হাসান ও ইয়াসমিন কর্মস্থল আদমজী ইপিজেডে চলে যায়। এদিকে রাতের ডিউটি শেষে সুমন সকাল ১০ টায় বাসায় ফিরে স্ত্রী ও দুই সন্তানের গলাকাটা লাশ এবং তার স্ত্রীর বড় বোনের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় দেখতে পায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আজিজুল হক জানান, ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। স্বীকারোক্তিতে আব্বাস জানায়, ক্ষোভ থেকেই সুমনের ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রথমে সুমনের স্ত্রী নাজনিন (২৮) ও তার দুই কন্যা সন্তান নুসরাত (৮) ও সায়মার (২) গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় চিৎকার চেচামেচি করলে তার নিজের প্রতিবন্ধি মেয়ে সুমাইয়াকেও (১৫) ছোড়া দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

আরও পড়ুন: 'রিফাত শরীফকে মাইর দিয়া শিক্ষা দিতে বলেছিলাম, হত্যা করতে বলিনি'

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, আহত সুমাইয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন