বাড়ির জায়গা দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহিলপুরে একটি পরিবারের লোকজনের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাংচুর করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। ঘটনায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. কাউসার মিয়া নামে নৌ-পুলিশের এসআইয়ের বিরুদ্ধে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ নিয়ে ওই পুলিশ সদস্য হুমকি-ধামকিও দিচ্ছেন। তার কারণে অশান্তি বিরাজ করছে উত্তর সুহিলপুরের জলিলের বাড়িতে।
কাউসার জেলার আশুগঞ্জে কর্মরত। গত কয়েক মাস ধরেই চলছে এই অবস্থা। সর্বশেষ ২২সেপ্টেম্বর গ্রামের আবদুর রহমান মাস্টারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আহত করা হয় মোশাররফ হোসেন, হাবিবুল্লাহ, বদর উদ্দিন, মোশারফের ছেলে জুবায়ের, আসমা, রত্নাসহ আরও কয়েকজনকে।
২৪ সেপ্টেম্বর বদর উদ্দিন বাদী হয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দেন। মামলায় কাউসারের স্ত্রী মিরজাহানের ভাই সেলিম, সোহেল, রাসেলকে আসামি করা হয়। কাউসারের বিরুদ্ধে ২৯ সেপ্টেম্বর জেলার পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়। তাতে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিবাদ লাগিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টায় ব্যস্ত ওই এসআই। তার কারণে নির্যাতিত অবস্থায় আছেন আবদুর রহমান মাস্টারের পরিবার।
সরজমিনে দেখা যায়, আবদুল জলিলের ৫ পুত্র সন্তানের মধ্যে আবদুর রহমান মাস্টারের ওয়ারিশদের সঙ্গে তার অপর দুই ভাই আবদুস সাত্তার ও সোনা মিয়ার ওয়ারিশদের বিরোধ চলছে। তারা জোর করে আবদুর রহমানের জায়গা দখল করার চেষ্টা করছে।
আবদুর রহমানের বড় ছেলে মোশাররফ হোসেন জানান, তার চাচা আবদুস সাত্তার ১৯৯৪ সালে তার বাবার কাছে মোট সাড়ে ২২শতক জায়গা বিক্রি করে তেলীনগরে শ্বশুর বাড়িতে চলে যান। সেখানে থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে আসলে আবদুর রহমান মাস্টারই তাকে কিছু জায়গা কিনে দেন। এখন ওই জায়গার পাশে তাদের মালিকানাধীন ৩শতক জায়গা দখল করে নিয়েছে সাত্তার। সেখানে রাতারাতি টিনের ঘর তৈরি করে।
শুধু তাই নয়, মালিকানধীন কুমিল্লা-সিলেট সড়কের পাশে আরও ৭ শতক জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়। কাজের জন্যে রাখা কয়েক হাজার ইট ও রড লুট করা হয়। এর আগে ৩ জুন আবদুর রহমান মাস্টারের পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা হলে তার ছেলে মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে আবদুস সাত্তার ও মোবারক হোসেনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ফের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর করা হয়।
এ ঘটনায় জামাল মিয়া বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন ১৯ আগস্ট। মামলার আসামি আনোয়ার হোসেনের জামিন বাতিল হলে আবারও বাড়িঘরে হামলা হয়। মারধর করা হয় আবদুর রহমানের পরিবারের লোকজনকে। তবে এসব কিছুর পিছে কলকাঠি নাড়ছেন এসআই কাউসার এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
গ্রামের হোসেন মিয়া জানান, কাউসারে দাপটের কারণেই বারবার হামলার ঘটনা হচ্ছে। আবদুস সাত্তার দাবি করেন, ২০০২ সালে সোনা মিয়ার কাছ থেকে জায়গা কিনেছেন। তারাই উল্টো মারধোর করছে।
এসআই মো. কাওসার মিয়া বলেন, তিনি কোন পক্ষে নন। আবদুস সাত্তার ও আবদুর রহমান মাষ্টারের পরিবারের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছে। তার শ্বশুর সোনা মিয়ার পরিবার কোন পক্ষে নয়।
আরও পড়ুন: হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদ সীমার ওপরে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মামলা-মোকদ্দমাও রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু

