ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
২৭ °সে


আইনজীবীরা সমাজ ও দেশের চিত্র বদলে দিতে পারে: রাষ্ট্রপতি

আইনজীবীরা সমাজ ও দেশের চিত্র বদলে দিতে পারে: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, 'বর্তমানে আইনজীবী সমাজ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এই পেশায় আসা লোকজনের সংখ্যা দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। জাতীয় সংসদের মধ্যেও একই অবস্থা। একসময় শতকরা ৫১ ভাগ সংসদ সদস্যই ছিলেন আইনজীবী।'

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা বার প্রাঙ্গণে কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতি প্রদত্ত সংবর্ধনা এবং ১০ তলা বিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, 'অষ্টম সংসদে আমি যখন স্পিকার ছিলাম তখন ৩৪৫ জনের মধ্যে মাত্র ৩৩ জন সংসদ সদস্য ছিলো আইনজীবী। এদের মধ্যে মাত্র ১০/১২ জন প্র্যাকটিসিং আর বাকিরা ছিলো নন-প্র্যাকটিসিং আইনজীবী। তাহলে কি আমরা ধরে নিতে পারি জনগণের সঙ্গে আইনজীবী সমাজের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে? এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় এর পেছনের কারণ কী? আইনজীবীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।'

এ সময় তিনি বলেন, 'আইনজীবী সমাজ যদি সঠিকভাবে চলে এবং তাদের ওপর যদি জনগণের আস্থা থাকে তাহলে তারা সমাজ ও দেশের চিত্র বদলে দিতে পারে। অতীতে এর নজির রয়েছে।'

আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মো: ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল আলম সহিদ। বক্তব্য রাখেন নূর মোহাম্মদ এমপি, জেলা ও দায়রা জজ মো: সায়েদুর রহমান খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জ বারে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'তখন আইনজীবীরা মানুষকে সেবাদানের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতো। আমি কখনো কাউকে ‘প্যাঁচের’ মধ্যে ফেলে কারো কাছ থেকে টাকা নিইনি। আইনজীবীদের কাছে বিপদগ্রস্ত মানুষেরা আসে। এখানে এসে তারা যদি হয়রানির শিকার হয়, তাহলে আপনাদের প্রতি তাদের বীতশ্রদ্ধ ভাব আসবেই।'

তিনি বলেন, 'আমি যখন কলেজের ছাত্র ছিলাম তখন দেখেছি আইনজীবীরা কিশোরগঞ্জ শহরের নেতৃত্ব দিতেন। শুধু সামাজিকভাবে নন, রাজনৈতিকভাবেও তারা নেতৃত্ব দিতেন। প্রতিটি এলাকার সমস্যা সমাধানে আইনজীবী অথবা মোক্তার সাহেবরা ভূমিকা রাখতেন।'

তিনি কিশোরগঞ্জ বারের কল্যাণ তহবিল সম্পর্কে বলেন, 'আইনজীবীদের জন্য এই তহবিল আমিই করেছিলাম। আমি এখন শুনছি প্রতিটি ওকালতনামার জন্য নাকি ২৭০ টাকা করে আদায় করা হয়ে থাকে। ‘ইট ইজ টু মাচ’। সাধারণ মানুষের ‘গলা কাটা’ ঠিক না। আইনজীবীদের কাছে মামলা করতে এসে এত টাকা দিয়ে ‘পাওয়ার’ নিতে হয় বাংলাদেশের কোথাও এমন নজির নেই। এটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি। আইনজীবী কিংবা আইনজীবীর কোনো আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে মামলা হলে বাদীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ না দেয়ার সিদ্ধান্তটিও পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।'

আরও পড়ুন: শিক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান রাবি কর্তৃপক্ষের

এর আগে রাষ্ট্রপতি ১০ তলা বিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি বিকালে শ্যামসুন্দর আখড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ইত্তেফাক/এএন

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন