ঢাকার মিরপুরের পল্লবী থানাধীন সেকসন-১২ এর ব্লক -ডি, কালাপানি নতুন ক্যাম্প এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় সাগর (১৫) নামে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোর। তাকে ২০ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি দুই থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ওই শিশুর পিতা শাকিল পল্লবী থানায় অপহরণ মামলা করতে গেলে পুলিশ দায়সারাভাবে একটি সাধারণ ডায়েরি নিলেও ঘটনার ২০ দিন অতিবাহিত হলেও অপহৃতকে উদ্ধার করতে পারেনি।
পুলিশ ও অপহৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পল্লবী থানার মিরপুর কালাপানি নতুন ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা শাকিল হোসেনের মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোর সাগর গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। ওইদিন অনেক খোঁজ করে তার কোন সন্ধান করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। পরে সকালে এক অজ্ঞাত মোবাইল থেকে প্রতিবন্ধীর পিতা শাকিল হোসেনের মোবাইলে কল করে তাকে জানায় যে তার ছেলেকে পাওয়া গেছে। তাকে পেতে হলে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে।
এ সময় অপহরণকারী একটি রকেট (টাকা পাঠানোর) নম্বর ম্যাসেজ করে শাকিলের মোবাইলে। পরে দরিদ্র গার্মেন্টস কর্মী শাকিল কোন রকমে ১ হাজার টাকা জোগাড় করে ওই নম্বারে পাঠায়। এর পর অপহরণকারীরা আবার ৫ হাজার টাকা দাবি করলে শাকিল দ্বিতীয় দফায় তাদের আবারও ১ হাজার টাকা পাঠায়। এরপরও অপহরনকারীরা প্রতিবন্ধী ওই কিশোরকে ফেরত না দিয়ে তার চাচা সাব্বিরকে মোবাইলে কল করে আরও ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর নিরুপায় শাকিল ও তার ছোট ভাই সাব্বির বিষয়টি পল্লবী থানায় গিয়ে জানান ও একটি অপহরণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নেণ।
এ সময় পুলিশ অপহরণ মামলা না নিয়ে দায়সারাভাবে একটি জিডি গ্রহন করে। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সাগরকে উদ্ধার করার বিষয়ে পল্লবী থানা পুলিশের কোন সহযোগিতা না পেয়ে অসহায় পরিবার ডিবি পুলিশের শরনাপন্ন হয়। পরে ডিবি পুলিশ ওই মোবাইল নম্বারটি অনুসন্ধান করে জানতে পারে সেটি রাজশাহীর বাগমারা থানা গনিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের নামে রয়েছে।
এদিকে প্রতিবন্ধী কিশোর অপহরনের ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও তাকে পল্লবী থানা ও বাগমারা থানার পুলিশ উদ্ধার করতে না পারায় চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে তার পরিবার।
প্রতিবন্ধীর পিতা শাকিল হোসেন বলেন, 'আমি খুব গরীব মানুষ । দিন আনি দিন খাই। ছিলেকে হারিয়ে আজ ১৫ দিন আমি ও আমার স্ত্রী বিউটি খাতুন এখন পাগল প্রায়। গরীব বলে পুলিশও আমাদের কথা আমলে নিচ্ছে না।'
তিনি তার ছেলেকে উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার উপপরিদর্শক মোসলেম আলী বলেন, 'ওসি স্যারের নির্দেশ পেয়ে আমি আরও এক এসআই সহ ঘটনাস্থল হাসনিপুরে যাই। সেখানে হান্নানের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে ধরার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'
বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, 'পল্লবী থানার ঘটনা । মামলা সেখানেই হওয়া দরকার। তারপরও আমরা পল্লবী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিবন্ধী ওই কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'
আরও পড়ুন: রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু
এ বিষয়ে পল্লবী থাকার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, 'ওই কিশোরকে উদ্ধারে বিভিন্ন থানায় ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। বাগমারা থানার সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। দ্রুত ওই কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।'
ইত্তেফাক/এএন
