কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে অপহৃত কলেজ ছাত্রীকে এক সপ্তাহ পর উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট হতে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে অভিযুক্ত যুবককেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ডিবি (ডিডেক্টিভ ব্রাঞ্চ)পুলিশের ওসি মানস বড়ুয়া। গত ১৪ অক্টোবর তাকে অপহরণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অপহৃত পপি পাল (১৬) কক্সবাজার পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ড মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়ার সোনারাম পালের মেয়ে। সে কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ রায়হান (২৫) একই এলাকার আবদুস শুক্কুরের ছেলে।
আরও পড়ুন: ভাতিজিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে আপন চাচা আটক
অপহৃত পপির বাবা সোনারাম পাল মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার মেয়ে প্রতিদিনের মতো কক্সবাজার শহরের বার্মিজ স্কুল এলাকা থেকে প্রাইভেট পড়ে ১৪ অক্টোবর বিকাল ৩ টার দিকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে রায়হান সহযোগীদের নিয়ে সিএনজি যোগে অপহরণ করে। রায়হান তার মেয়েকে দীর্ঘদিন যাবৎ আসা-যাওয়ার পথে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। পপিকে মুখ চেপে ধরে গাড়িতে তুলে নেওয়ার ঘটনা তার কয়েকজন আত্মীয় দেখতে পেয়ে সিএনজিকে ধাওয়া করলেও তাদের আটকাতে পারেনি।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর মামলাটি সদর মডেল থানা হতে সোমবার সকালে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, রায়হানের স্বজনদের দাবি, অপহরণের অভিযোগ মিথ্যা। তারা দু’জন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলেও একে অপরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে জড়িত। স্বেচ্ছায় তারা পালিয়েছিলো। এখন অপহরণের মিথ্যা অভিযোগে ছেলেটিকে ভোগান্তিতে ফেলেছে তাদের পরিবার। এর পেছনে কক্সবাজার হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের হাত রয়েছে। তাই প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি তদন্ত করতে অনুরোধ জানান তারা।
কক্সবাজার ডিবি (ডিডেক্টিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশের ওসি মানস বড়ুয়া জানান, প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিবি পুলিশ অপহৃত পপি পালকে একই দিন রাত ৮টার দিকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে। অপহরণে অভিযুক্তকে আটক করে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম

